ঈদকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় সেনাপ্রধান। সেই আলোচনায় সেনা প্রধানকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে তিনটি বিষয়। প্রথমত ঈদ উপলক্ষে সেনাপ্রধানের বক্তব্য, যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা রকম জল্পনা। এরপর সেনাপ্রধান সাক্ষাৎ করেছেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি ও স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুসের সঙ্গে, এই ঘটনার পরেও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনাও শুরু হয়েছে। আবার সদ্য জাতির উদ্দেশ্য ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে স্পষ্ট হয়েছে আগামী বছর এপ্রিলের প্রথমার্ধে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করেছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান ও প্রচেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎটিকে রাজনৈতিক দিক থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন অনেকেই।
ঈদ উপলক্ষে সমাজ মাধ্যমে একটি বাণী দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেখানে তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধাদের স্মরণ করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দর সহ বিভিন্ন জায়গায় যেখানে সেনারা প্রাণ উৎসর্গ করেছে যারা কর্মরত বীর যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। আর সেনাপ্রধানের এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন সামনে আসতেই অনেকে বিতর্কে সৃষ্টি করেছেন দাবি তুলছে সেনাপ্রধান ৭১ এর স্মৃতি তুলে ধরলেন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন তবে কেন ২৪ এর কথা বললেন না কেন জুলাই আন্দোলনের কথা বললেন না। অর্থাৎ এখন বিতর্কটা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে একটা দল বলছে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে জুলাই আন্দোলন নেই কেন? আর একটা দল বলছে তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলন থাকবে কেন? অর্থাৎ সেনাপ্রধানের বক্তব্যের স্বপক্ষে অনেকে দাবি করছেন সরকারিভাবে কোন বক্তব্য পেশ করা হবে সেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আর যারা জুলাই আন্দোলনকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তুলনা করছে তারা প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করে এমনটাই দাবি একাংশের। সেনাপ্রধানের বক্তব্যের বিপক্ষে দাবি উঠছে সেনাপ্রধান জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করবে এটা তার এক প্রকার কৌশল। অর্থাৎ এখন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে গুটিয়ে ফেলে অনেকে ই একটা বিতর্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে।
আবার অন্যদিকে যখন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সেনাপ্রধান তখন আওয়ামী লীগ পন্থীদের তরফ থেকে দাবি করা হলো সেনাপ্রধান কে তবে এবার মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে জোট বাধার চেষ্টা করছেন, সেনাপ্রধান কি তবে পাল্টি খেলেন? এরপর যখন আবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সেনাপ্রধান তখন এই আওয়ামী লীগ পন্থীরাই দাবি করলেন রাষ্ট্রপতিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল, নির্বাসিত করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতিকে! অর্থাৎ সে দেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে, অন্ধকারে রাখা হয়েছিল কোনভাবেই আলোর অন্তরায় তাকে আসতে দেওয়া হচ্ছিল না । কিন্তু সেনাপ্রধান বঙ্গভবনে পৌঁছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে অন্ধকার থেকে বার করে এনেছেন। এই ঘটনাটা নিয়েও এখনো পর্যন্ত বিতর্ক থামছে না বাংলাদেশের অন্দরে।
আবার এই আবহাওয়ায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস তিনি জানিয়ে দিবেন চলতি বছর নির্বাচন সম্ভব নয় আগামী বছর এপ্রিলের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তার এই ভাষণের পরে দেখা গেল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হল। যেমন বাংলাদেশের এই মুহূর্তে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের দাবি অনুযায়ী ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা, তাতেও একপ্রকার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিতে। পাশাপাশি সেনা প্রধানের তরফ থেকেও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছিল, অর্থাৎ যখন সেনাপ্রধানের বিপরীতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময়সীমার আভাস দিলেন সেই পরিস্থিতিতে আবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান। তবে সেনাপ্রধানের বাস্তবিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।












Discussion about this post