বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সাধারণ নাগরিক উভয়ের মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে একটি চিঠি। এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী চিঠি দিল প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে। জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা, উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
টিউলিপ সিদ্দিকীর লেখা চিঠির সারমর্ম হল, অন্তর্ভুক্তি সরকার এর অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের তরফ থেকে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে যে মামলা গুলি ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে একটি বৈঠকে বসলে সেই সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি গুলির সমাধান করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন টিউলিপ সিদ্দিকী। আমরা দেখেছি টিউলিপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে প্রথমত, ডিফেন্স নামক একটি অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে, যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনো পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও সেদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন যে দাবি করেছে টিউলিপ সিদ্দিক বা তার মা ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করে ৭,২০০ বর্গফুট জমি পেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগে সত্যতা এখনো পর্যন্ত খুঁজে বার করা সম্ভব হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের তরফে। আবার দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই তাকে যুক্তরাজ্য সরকার থেকে পদত্যাগ করতে হয় তা সকলেরই জানা।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা ওই চিঠিতে টিউলিপ সিদ্দিকী, আগামী সপ্তাহে লন্ডন সফরের সময় চলমান বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ চেয়েছেন, যেখানে তিনি রাজা চার্লসের সাথে দেখা করবেন এবং ডাউনিং স্ট্রিটে কেয়ার স্টারমারের সাথে দেখা করবেন। অর্থাৎ টিউলিপ চিঠি তে দাবী করেন, একটি বৈঠক ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিটির দ্বারা সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করবে যে আমার মায়ের বোন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরতে চাই।” তার আরও দাবি, “দুদকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা লন্ডনে আমার আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করতে অসম্মতি জানিয়েছে এবং স্পষ্টতই ঢাকার একটি এলোমেলো ঠিকানায় চিঠিপত্র পাঠাচ্ছে।” অর্থাৎ যে সমস্ত ঠিকানা টিউলিপের উদ্দেশ্যে চিঠি দেওয়া হচ্ছে সেগুলির ভিত্তিহীন।
পাশাপাশি সিদ্দিকী আরও বলছেন, “এই ফ্যান্টাসি তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, তবুও আমার আইনি দলের সাথে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।” এবং শেখ হাসিনার বিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার” তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত মাসে জানা যায় যে টিউলিপ সিদ্দিক এর গ্রেফতারের জন্য বাংলাদেশে একটি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে ।
এরপর টিউলিপের দাবি, এমন কোনও পরোয়ানা বা আদালতের শুনানির বিষয়ে তার কোনও জ্ঞান নেই যেখানে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হঠাৎ করে কেন টিউলিপ সিদ্দিক প্রধান উপদেষ্টা কে এ ধরনের একটি চিঠি পাঠালেন? যেখানে অন্তরবর্তী সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য আওয়ামীলীগ কে দেশে কোণঠাসা করা সেখানে এই চিঠি প্রকৃত অর্থেই নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। আর এই ধরনের একটি বৈঠকের মাধ্যমে সব ভুল প্রজাপতির সমাধান হবে সেটা কেনই বা মনে হল টিউলিপ সিদ্দিক এর? আর সর্বোপরি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুস যে এই বৈঠকে বসতে রাজি হবেন সেই ভ্রান্ত ধারণাই বা কেন তৈরি হল তার মধ্যে? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর অধরা।












Discussion about this post