অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধ হস্তে অসম সরকার। এই বিষয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, তার রাজ্য বিদেশি ট্রাইবুনাল ঘোষিত বিদেশী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই কাজ শুরু হয়েছে। অসমে অবৈধ বাংলাদেশী বা অভিবাসীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বার করার জন্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের জটিলতা কাটিয়ে এইবার সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানিয়ে দেন, ১৯৫০ সালের ইমিগ্রেন্টস নির্দেশ অনুসারে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিতাড়িত করতে পারবে সরকার। অর্থাৎ, কোর্টে মামলা ঝুলে থাকলেই শুধুমাত্র উপায় রয়েছে নাহলে সরাসরি পুশব্যাক। অর্থাৎ অবৈধ বাংলাদেশিদের তারাতে ৭৪ বছরের পুরনো আইন কে বেছে নিল হেমন্তের সরকার। এই বিষয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট 6A ক্লজ মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সেখানে ১৯৫০ সালের নির্দেশ এখনও রয়েছে। এতদিন আইনজীবীরা এই বিষয়টি তুলে ধরেনি বলেই, সরকার জানতে পারেনি এতদিন। কিন্তু এখন একশন মুডে হেমন্ত সরকার।
জানা যায়, নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে মুসলিমদের অধিকার রাখেননি। এই নিয়ে অবশ্য পার্লামেন্টে ঝড় উঠেছিল প্রবল ভাবে। বিরোধীরা বলেছিল, সংবিধানে ধর্মের কোনও ভেদাভেদ নেই। সেক্ষেত্রে তারা প্রশ্ন তুলেছিল, অন্য দেশ থেকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা ভারতে এসে যদি নাগরিকত্ব পায়, তাহলে মুসলিমরা পাবে না কেন? যদিও যারা ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করতে চেয়েছিল, তারা বলে, এই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করেছিল মুসলিম লীগ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তাহলে যারা নিজেদের জন্য আলাদা দেশ নিয়েছিল, তাহলে তারা সেই দেশ ছেড়ে কেন এ দেশে আসবে? অনেকে বলছেন, এর জেরে ভারতের যারা ভূমিপুত্র, এখানকার মানুষ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফরেনার ট্রাইব্যুনালে বলা আছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। যদি সেই সরকার মেনে না নেয়, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সেকশন 6A অব দ্যা সিটিজেন্সি অ্যাক্ট, সেখানে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, এই আইনটির কথায় বলা রয়েছে। অর্থাৎ ভারত সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই দেশে কুড়ি কোটি মুসলিম বসবাস করে। কিন্তু তারা সুরক্ষিত রয়েছেন এবং নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়েই রয়েছেন। মূলত সমস্যা অনুপ্রবেশকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, মুসলিম অনুপ্রবেশকারী সংখ্যায় অনেক বেশি। সংখ্যাটা 2 কোটির কম নয় বলে জানা যাচ্ছে। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে পাঠাবে। এজন্যই অসমে হেমন্ত সরকার ট্রাইব্যুনাল বসিয়েছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার জন্য। এবং এর মধ্য দিয়েই পুশ ইন করছে ভারত। অর্থাৎ আরও বিপদে ইউনূসের দেশের। এমনিতেই ভারত যেভাবে পুশ ব্যক করছে, তাতে নাজেহাল অবস্থা বাংলাদেশের। ইতিমধ্যেই ৬৭ জন অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়ে বলে খবর। যেখানে ৫৪ জন কে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সরকার ফিরিয়ে নিয়েছে। বাকি ১৩ জনকে ফেরাতে নারাজ বাংলাদেশ। এদিকে বিএসএফ নো ম্যানস ল্যান্ডে ছেড়ে দিয়েছে বাকিদের। আর এই নিয়েই এখন তরজা তুঙ্গে।












Discussion about this post