ভারতের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ। ভারতের অপারেশন সিঁদুরে তুরস্ক এর সহায়তা পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু তুরস্কের শক্তিশালী ড্রোন থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানকে রীতিমতো নাজেহাল করেছিল ভারতীয় বাহিনী। এবার গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তুরস্ককে পাশে নিয়েই নয়ার ষড়যন্ত্রে মেতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন জামাত-ই-ইসলামিকে অর্থ সাহায্য করছে তুরস্ক, করছে অস্ত্র সরবরাহও। কিন্তু এখন প্রশ্ন, যে পথে হেঁটে পাকিস্তানের কোমর ভেঙেছে, সেই একই পথে হেঁটে বাংলাদেশের মতো একটি ছোট রাষ্ট্র কি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, এই পুরো পরিকল্পনার একটি কান্ডারী হল পাকিস্তানের আইএসআই। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন গুলিকে অর্থ সরবরাহ করছে তুরস্ক। আর অন্যদিকে আইএসআই এই জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করছে। আর এই দুই দেশের সমস্ত উদ্দেশ্যগুলিকে বাস্তবায়িত করছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন জামাত-ই-ইসলামি ত্রিশক্তির ভারতের জন্য একটি নতুন মাথা ব্যাথার কারণ। মনে করা হচ্ছে এই নয় আর ষড়যন্ত্রের ফলে একটি নতুন ফ্রন্ট লাইন তৈরি করা হবে যার মাধ্যমে মৌলবাদ, অস্ত্র ভারতে পাঠানো সম্ভব।
সূত্র বলছে, ভারত পাকিস্তান সংঘাতে আবহে ঠিক যেভাবে তুরস্ক পাকিস্তানে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এবার ইউনূসের পূর্ব পাকিস্তানেও সহায়তার মাধ্যমে ভারত বিরোধিতাকে উসকে দিচ্ছে তুরস্ক। তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ঢাকার মগবাজারে জামাতের অফিস পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ সরবরাহ করেছে। এই তহবিল কেবল ভবন তৈরির জন্য নয়, বরং সে দেশে ও ভারতে জামাতের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি, সামরিক প্রযুক্তি এবং নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে জামাতকে ট্রেনিং দিচ্ছে তুরস্ক। কারণ জামাতের সাথে যুক্ত ছাত্র নেতা সাদিক কাইয়ামের মতো কর্মীদের তুরস্কের অস্ত্র কারখানাগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। অর্থাৎ এখন তুরস্কের একমাত্র লক্ষ্য ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে জামাতের মাধ্যমে সন্ত্রাস ছড়ানো। তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এবং মৌলবাদী প্রতিষ্ঠানগুলি জামাতকে আর্থিক, সামরিক ও আদর্শগত দিক থেকে সহায়তা প্রদান করছে এর প্রভাব শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজনীতি নয় ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতেও লক্ষ্য করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্ক দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি এজেন্ডা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মীয় কর্মশালা থেকে বৃত্তি বিতরণ সবকিছুই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মৌলবাদী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সক্রিয় করে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে তুরস্ক সরকার।
এই আবহেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান মহাম্মদ আশিক চৌধুরী তুরস্কের অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি পরিদর্শন করেছেন। আর এই পরিদর্শনের বিষয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী একেবারেই অবগত নয় বলে জানা গিয়েছে অর্থাৎ সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতিতেই সমস্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাই বলা যায়, এটি বেসামরিক পরিদর্শনের আড়ালে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলতে পারে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে।
আর বাংলাদেশের এই মৌলবাদী সংগঠনগুলির সক্রিয়তা যে ভারতের ভূ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশের এই ষড়যন্ত্রে । যদি জামাত তুরস্ক থেকে অস্ত্র, অর্থ এবং আদর্শ গত সমর্থন পায় এবং মায়ানমারের আরাকান আর্মির মতো সংগঠনগুলিকে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সক্রিয় গড়ে তোলে তবে এটি ভারতের জন্য হতে চলেছে একটি ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি।












Discussion about this post