গত বছর জুলাই আন্দোলন যে প্রতারণার আন্দোলনে পরিণত হবে সেই আঁচ অনেকেই পেয়েছিলেন। আর এবার এটি যে সত্যিই প্রতারণার আন্দোলনের রূপান্তরিত হয়েছে তা অনেক সহজ ভাবে কঠিন শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করলেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও আন্দোলনের প্রথম সারির নেত্রী উমামা ফাতেমা।
আন্দোলন সংস্কার, জুলাই শহীদ, আহত এগুলি শুধুমাত্রই মুখের বুলি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র। এমনকি তিনি বাজারদরে কেনাবেচার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। দেখা গিয়েছিল শুরু থেকেই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ব্যানার থেকে কোন রাজনৈতিক দল গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন এই নেত্রী। বিভিন্ন মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করে এসেছিলেন। এবং অনেকেই মনে করছেন উমামা ফাতেমা যেহেতু একজন প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বের নারী তাই তার পক্ষে এই সংগঠনে টিকে থাকা যে সম্ভব হবে না সেই জল্পনা আগেই তৈরি হয়েছিল। এবং উমামা ফাতেমা দীর্ঘ সময় ধরে সংশয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বিস্ফোরক এই নেত্রী। আপনাকে বিস্ফোরক হতে দেখা গেল ঠিক যখন দুদিন আগে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কমিটি গঠন হলো তারপরে উমামা ফাতেমা ফেসবুকে পোস্ট করে ছাত্র আন্দোলনের আসল মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছেন। অর্থাৎ এই সংগঠনের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সুবিধাবাদ অনিয়মের প্রতিটি দিক উন্মুক্ত করে দিয়েছেন উমামা।
পোস্টের শুরুতেই উমামা লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখানেই শেষ হলো।’ অর্থাৎ সংগঠনের মুখপাত্রের পর থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, এনসিপি নামক রাজনৈতিক দলটি গঠনের পর আমি জুলাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো করার দায়বদ্ধতা থেকে এই ব্যানার নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু দলীয় লেজুড় ও প্রেসক্রিপশনের বাইরে এই ব্যানারটি স্বাধীনভাবে কাজ করলে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ত। এছাড়াও তিনি জানাচ্ছেন দলের মুখপাত্র হওয়া সত্ত্বেও তাকে তার বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে নোংরা প্রচারণা চালানো হয়েছে। এদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সো কল্ড সহযোদ্ধারা মানুষকে টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার করে, প্রয়োজন শেষ হলে ছুড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও লাগে না। প্ল্যাটফর্ম পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি সুবিধা ভোগিদের পোকার মত খেয়ে ফেলার সাথে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন তিনি যখন এই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বা অন্যান্য দের জানানোর চেষ্টা করেছেন তখন তাতে কোন বিহিত হয়নি বরং তাদের আচরণ যথেষ্ট সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এই পোস্টে বেশ কিছু কঠিন শব্দ ব্যবহার করে তিনি উল্লেখ করেছেন তার সঙ্গে যারা নোংরামি করেছে এবং অভ্যুত্থানকে যারা বাজারদরে দরকষাকষি করেছে তাদেরকে তিনি ক্ষমা করবেন না। পাশাপাশি তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রদের পড়াশোনার টেবিলেই ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন । আর তার বলা এই বেশ কিছু শব্দ অবাক করেছে বিভিন্ন মহলকে। কারণ যে ছাত্ররা বাংলাদেশকে পাল্টে ফেলার অঙ্গীকারে রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছে যাদের মুখে কখনোই পড়াশোনার কথা বা শিক্ষা ক্ষেত্রে কোন দাবি শোনা যায়নি এবং সরকারের তরফেও এই ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত কোন ঘোষণাও করা হয়নি। পাশাপাশি এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ব্যানার থেকে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এও দাবি করছে তারা নির্বাচনে ২০০ থেকে ৩০০ আসন লাভ করবে। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের পরিসংখ্যানে বলছে জাতীয় নাগরিক পার্টির জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র ৫%। আর এই পরিমাণ জনপ্রিয়তা নেই রাজনীতিতে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। কিন্তু এবার বৈষম্য বিরোধী সংগঠনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তুলে ধরলেন এই আন্দোলন এবং সংগঠনের প্রতিটি দিক, যাতে মুখোশ খুলছে একের পর এক ছাত্রনেতার।











Discussion about this post