বাংলাদেশ জুড়ে চলছে ভয়ংকর মব। প্রত্যেকটি মবের ঘটনা দেখলে গা শিউরে উঠবে সকলের। দেশজুড়ে মব শুরু হলে সেদেশের সাধারণ জনগণ ভেবেছিল হয়তোবা সেনার তৎপরতায় এই মব ঠেকানো সম্ভব হবে। সেনার হুংকারে মব থামার প্রেক্ষাপট তৈরি হবে এমন স্বপ্ন দেখেছিল সাধারণ নাগরিক। কিন্তু কত দুদিনে যেভাবে একের পর এক ভয়ংকর মবের ঘটনা সামনে আসলো, সরকার বা সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কোন বিবৃতি বা বক্তব্য যেমন পাওয়া যায়নি তেমনি সেনা কোন অভিযানের ঘোষণাও সামনে আসেনি। তবে এখন বাংলাদেশ জুড়ে জনগণের নিরাপত্তার অবস্থান কোথায়? সরকারের তালিকাতে কি সেনাবাহিনীও যুক্ত হল?
গত দুদিনে বাংলাদেশ জুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে দেশের প্রতিটি নাগরিক। সম্প্রতি মুরাদনগরে সনাতনী হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনা সকলকে চমকে দিয়েছে এরপরই আরো কিছু চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে যেগুলি সে দেশের নাগরিকের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। একাধিক চঞ্চল্যকর খবর এর মধ্যে একটি হল ঢাকায় এক মহিলাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় গেলে মামলা করা যাবে না এই দাবিতে থানা ঘেরাও করা হয়েছে। অর্থাৎ এই মুখ সৃষ্টি করার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় এক নারীকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে এই মামলা রুজু হয়। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।
পুলিশি সূত্র বলছে, মামলার আসামি জাকির হোসেন ঢাকা উত্তর সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ এই অভিযুক্ত ব্যক্তির যেটা রাজনৈতিক পরিচয় আছে পুলিশের বক্তব্যে তা স্পষ্ট। আর স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়ে থাকে তবে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের উচিত দলের সেই সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কারণ আগামী নির্বাচন বিএনপি’র জন্য একটি কঠিন লড়াই হতে চলেছে ক্ষমতা হাতে পেতে বিএনপিকে অনেকটাই কঠোর হতে হবে দেশের নাগরিকের স্বার্থে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আবার এই ঘটনার পরেই দেখা গিয়েছে,রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ‘মব সৃষ্টি করে’ হোটেল মিলিনা নামের একটি আবাসিক হোটেল দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে র্যাব। শনিবার এ ঘটে যাওয়া এই মবের ঘটনায়
রবিবার র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবার এই ধরনের একাধিক মব সৃষ্টিকারী ঘটনার পর পটুয়াখালীতে এক নারীর আর্তনাদ সকলের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে এক নারীকে হাত-পা বেঁধে তুলে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও পুলিশের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক। টবে পুলিশের এই দাবিকে মানতে নারাজ পরিবার ও স্থানীয়রা। ঘটনার একটি ভিডিওটি শেয়ার করে কামাল গাজী নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমার বাড়ি থেকে আমার কলিজা বউকে এভাবে মেরে হাত পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।’ এরপর মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে।
তবে একাধিক মব সৃষ্টিকারী ভয়ঙ্কর ঘটনা প্রকাশ্যে আসলেও গনমাধ্যমে এই ঘটনা গুলিকে নিয়ে খুব বেশি সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছেনা। কারণ সেদেশের গণমাধ্যম এর স্বাধীনতা অন্য জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। দেশজুড়ে যে সকল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে সেই সমস্ত খবর গণমাধ্যম প্রকাশ করলেও মুহূর্তের মধ্যে তা তুলে নিতেও দেখা যাচ্ছে, আর এখান থেকেই প্রমাণ হয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা। পাশাপাশি দেশজুড়ে যখন সাধারণ মানুষের আর্তনাদ প্রকট হচ্ছে তখন সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে নীরব থাকছে। সেনাবাহিনীও আজ নিশ্চুপ অর্থাৎ মবের বিরুদ্ধে একের পর এক নির্দেশ আসলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। ধীরে ধীরে যেভাবে মবের রাজত্ব বিস্তার লাভ করছে সে দেশজুড়ে তাতে দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে পৌঁছয় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post