আর জি কর কাণ্ডের পর ফের এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী কলকাতা!
সম্প্রতি কসবা ল কলেজে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনাটি আদালতে গিয়ে পৌঁছেছে। আর এই ঘটনায় ভিন্ন দুটি আবেদন করা হয়েছে ভিন্ন দুই আদালতে। এক থেকে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলার জন্য আবেদন জমা করে এই ঘটনায়, আদালতের তরফ থেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির উপস্থিতিতে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কলেজ গুলিতে নারী নিরাপত্তার ওপর কঠোর নজরদারীর পদক্ষেপ যাতে রাজ্য সরকার নেয় সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গর্জে উঠেছিল গোটা দেশ। প্রতিবাদ বিক্ষোভ রাত দখলের সাক্ষী ছিল কলকাতা। কিন্তু এই ঘটনা রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গণধর্ষণের সাক্ষী এই তিলোত্তমা। আর জি কর কান্ডে সাধারণ জনগণের প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের তরফে যে পদক্ষেপ গুলি গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেগুলি যে কোনটাই পূরণ হয়নি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ এই কসবা ল কলেজের গণধর্ষণের ঘটনা।
উল্লেখ্য এই ঘটনায় যে আবেদন আদালতে জমা পড়েছে, তারপরে প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি দেশের শীর্ষ আদালতে আরেকটি আবেদন জমা করেছেন আইনজীবী সত্যম সিংহ। এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে কসবার এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হোক তবে সেটি হ হওয়া উচিত শীর্ষ আদালতের তত্ত্বাবধানে ও নজরদারিতে। এবং নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার আবেদনও করা হয় শীর্ষ আদালতে। এরপর দেশের শীর্ষ আদালতের তরফেও মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয় এই ঘটনায়।
এ ধরনের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সম্পর্ক একটু ভিন্নধর্মী। কারণ এই রাত্রে বিভিন্ন সময় কোটি কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে। এবং একাধিক ঘটনায় আদালতের তরফ থেকে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশে অনেকটা আশ্বস্তও হতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যের সাধারণ জনগণকে। কিন্তু এরপর এইসব দুর্নীতির ঘটনায় যেভাবে সিবিআই তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু শুধু আর্থিক দুর্নীতিতেই নয় গত বছরের ঘটে যাওয়া আরজিকর মেডিকেল কলেজের খুন ধর্ষণের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে তখনও সাধারণ মানুষ ভরসা করেছিল এই তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর। কারণ কেন্দ্র তদন্তকারী সংস্থার দ্বারা তদন্ত প্রক্রিয়া চললে আসল ঘটনা সামনে আসবে দোষীরা শাস্তি পাবে এমনটাই আশা করা হয়েছিল রাজ্য তথা দেশবাসীর তরফে। কিন্তু সেখানেও ফলাফল শুধুই হতাশা। তাই এখন অনেকেরই দাবি কসবা গণধর্ষণ ঘটনায় সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত একটি ভালো বিষয় হলেও সিরিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা সামনে আসবে দোষীর শাস্তি পাবে সেই বিশ্বাসটা হয়তো আর এই রাজ্যবাসীর মধ্যে নেই। দাবি করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশ ও সিবিআই একই কয়েনের এপিঠ ওপিঠ।
দেখা যাচ্ছে,এই ঘটনায় বিজেপির তরফ থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হলেও রাজ্য সরকার এই তদন্তের পক্ষপাতী নয়। কিন্তু এই আবহাওয়ায়ই বিজেপির সাধারণ সম্পাদিকা তথা বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পল তিনি দাবি করছেন, সিবিআই আর জি করের ঘটনা তদন্তে সফল হয়নি, ফলে সিবিআই তদন্তের বদলে পুলিশে তদন্ত করা হোক সেই তদন্তের দাঁড়ায় আসল ঘটনা ও অভিযুক্ত কে সামনে আনা হোক।
কিন্তু রাজ্য পুলিশ এই পুরো ঘটনার তদন্ত করুক, সেটাও হয়তো মেনে নিতে পারছে না অনেকেই। কারণ মনে করা হচ্ছে হয় পুলিশ আদালতের তত্ত্বাবধানে তাদের নজরদারিতে বা আলাদা কোন ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি তৈরি করা হোক তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত করুক রাজ্য পুলিশ। কারণ সিবিআই তদন্ত হোক বা পুলিশ তদন্ত করুক এই বিষয়টাতে আর ভরসা নেই সাধারণ জনগণের। ইতিমধ্যে ঘটনার পর থেকে রাজ্য পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে, প্রথমত সার্ভিস ডক্টর ফোরামের তরফ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে নির্যাতিতা ওই ছাত্রীর যে মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে সঠিক নিয়ম মানা হয়নি। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এনি যদি তার মেডিকেল পরীক্ষায় স্বাস্থ্য দপ্তরে তরফ থেকে গাফিলতি করা হয়েছে। কারণ নির্যাতিতার মেডিকেল পরীক্ষার সময় সেখানে একজন জুনিয়র ডাক্তার এর উপস্থিতিতে অন্য আরেকজন জুনিয়র ডক্টর এ মেডিকেল পরীক্ষাটি করেছিলেন। এই ধরনের গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম নয়, সেখানে একজন বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী। পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন হচ্ছে, নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী যে অভিযুক্তদের নাম উঠে এসেছে সেই অভিযুক্তদের নামের জায়গায় কয়েকটি অক্ষর ব্যবহার করা হচ্ছে এত বড় ঘটনাটি যারা ঘটালো শুরুতে তাদের নাম কেন প্রকাশ্যে আনলো না পুলিশ? কারণ আলিপুর আদালতে প্রকাশ্য নদীতে অভিযুক্তদের সম্পূর্ণ নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর অন্যদিকে পুলিশের এফআইআর কপিতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্যাতিতার নাম ও পরিচয় এর ক্ষেত্রে সাংকেতিক অক্ষর ব্যবহারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের নামও অক্ষরের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে কিন্তু কেন? অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা কেন করা হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে। এই বিভিন্ন ঘটনাযই যেন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিচ্ছে। ফলে সিবিআই তদন্ত ও পুলিশের তৎপরতাতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কসবার ল কলেজের গণধর্ষনের তদন্ত, আর জি কর কাণ্ডের তদন্তের মতোই সাধারণ জনগণকে আশাহত করে কিনা এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post