আমরা সবাই জানি গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। আর সেই পতনের নেপথ্যে কারাণ কি সেটাও মোটামুটি জানি আমরা। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বা তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে এসে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করলেন। গত রবিবার বাংলাদেশের মুহাম্মুদ ইউনূসের সরকারের দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাতেই দেখা গেল আওয়ামী লীদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুর কাদেরকে লাইভে এসে একটি বক্তব্য রাখতে। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, দীর্ঘ ১০ মাস পর প্রকাশ্যে এলেন দলের সাধারণ সম্পাদক। সত্যিই দশ মাস পর অন্তরাল থেকে বেরিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা দিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। এর আগে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় টেলিফোনিক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কিন্তু কোথায় তাঁকে সামনাসামনি দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলমের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওবায়দুল কাদের বলছেন- আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। তারা আদৌ নির্বাচন দিবে কী না সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সন্ধিহান। নির্বাচনের নামে তাদের যে অশুভ ঐক্য, এই ঐক্যকে নিয়ে তারা আজ সংস্কারের নামে গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। আজকে বিচারের নামে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে প্রহসন চালানো হচ্ছে। এই ধারা আমরা গুঁড়িয়ে দিব এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ চলবে।
কাদেরের এই বক্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, যে আওয়ামী লীগের নেতাদের এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কার্যত খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা কিভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন? তাহলে কি তাঁরা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রাস্তা খুঁজছেন? দলের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনাও প্রায় একই ধরণের কথা বলেছেন ইদানিং সময়ে। তাহলে কি কোনও ইঙ্গিত পেয়েছেন আওয়ামী নেত্রী। সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং ভারতের দুটি প্রথমসারির দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবায়েদুল কাদের দাবি করেছেন, তিনি ভারতের কলকাতা শহরে রয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি এও দাবি করেছেন যে আওয়ামী লীগ ফের স্বমহিমায় ফিরে আসবে বাংলাদেশে। তবে কখন এবং কিভাবে সেটা খোলসা করে বলেননি তিনি। প্রায় একই দাবি প্রতিনিয়ত করে চলেছেন আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসিনা ও কাদের দুজনেই ভারতের আশ্রয়ে আছেন। আওয়ামী লীগের অন্যান্য বহু নেতা-নেত্রীও ভারতে রয়েছেন। ফলে কোনও একটা সুযোগ পেলেই তাঁরা দ্রুত দেশে ফিরে যেতে পারবেন। তবে কাদের বা হাসিনার দেশে ফেরায় একটু সমস্যা আছে। তাঁরা চট করে বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না। কারণ, যতক্ষণ ইউনূস সরকার রয়েছে, ততক্ষণ তাঁরা অপরাধী। ফলে ইউনূস সরকারের পতন হলে এবং আওয়ামী লীগের জন্য অনুকুল পরিবেশ তৈরি হলেই তাঁরা বাংলাদেশে ঢুকবেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদূল কাদের যে কথাটা কানে বাঁধছে, সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, “আজকে বিচারের নামে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে প্রহসন চালানো হচ্ছে। এই ধারা আমরা গুঁড়িয়ে দিব এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ চলবে”। প্রতিরোধ চলছে, বাংলাদেশে আওয়ামী সমর্থকরা ঝটিকা মিছিল করছেন, বা লিফলেট বিলি, পোস্টার সাঁটানোর মতো কর্মযজ্ঞ করছেন। সেটা কি পর্যাপ্ত? নাকি বড় কোনও পরিকল্পনা রচনার কাজ চলছে? এর উত্তর অবশ্যই কালের গর্ভে রয়েছে।












Discussion about this post