চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু থেকে বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হওয়া লাগাতার অত্যাচার নিয়ে বারবার সরব হয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার সে ব্যাপারে ঢাকাকে কয়েকবার সতর্ক করলেও ইউনূসের সরকারের থামার লক্ষণ নেই। ফলে আগামীদিনে ভারত যদি বড় কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা ইউনূসের পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
গত বছর ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে গত দশ মাসে নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বারবার যে কথাটা সবচেয়ে জোর দিয়ে বলা হয়েছে তা হল সে দেশে হিন্দু ও অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন সম্পর্কে। নয়া দিল্লি এটাই বারবার বলেছিল, যে কোনওভাবে হোক বন্ধ করতেই হবে সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একথা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে একাধিকবার বলেছেন , সেটা টেলিফোনে হোক বা টুইটারে। আবার মাস ছয়েক আগে যখন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবদের যখন নিউ ইয়র্কে বা ঢাকায় দেখা হয়েছে, তখনও এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছিল ভারত। কিন্তু আদতে মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর তদারকি সরকার ভারতের এই দাবিকে মান্যতা দেয়নি। এমনকি বাংলাদেশে ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়েই চলেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সভ্য সমর্থকদের উপর যেমন অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তেমনই সমানতালে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরও অত্যাচার, হিন্দু নারীদের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি, যে ঘটনা ঘটল, সেটা তো আরও মারাত্মক। খুলনার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২৩ জুন দুপুরে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এমনকি সেই ধর্ষণের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েও দেয় দুস্কৃতিরা। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় মিথ্যা বক্তব্য সামনে চলে আসে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের দাবি, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অপরাধে দুজন অভুযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে বেছে বেছে হিন্দুদের উপরেই কেন নির্যাতনের খাঁড়া নেমে আসছে?
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় এসেছে একটি মেটিকুলাস ডিজাইন বা গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। যদিও মার্কিন ডিপ স্টেটের সেই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার উৎখাত এবং সেখানে একটি পুতুল সরকার বসানো। যার ফলে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে, সেটা হল বাংলাদেশে তাঁদের একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা। সেই উদ্দেশ্য তাঁদের আংশিক পূরণ হয়েছে। তবে সামরিক ঘাঁটি এখন বিশ বাও জলে। কিন্তু যারা এই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল, সেই কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলি এবং পাক আইএসআই, তাঁরা এখন বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-সমন্বয়কা, জামায়তে ইসলামীর মতো মৌলবাদী সংগঠনগুলি। তাঁদের মূল লক্ষ্যই হল বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্রের রূপান্তরিত করা। ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে। চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর মতো ধর্মীয় নেতারা এখন বিনা বিচারে বাংলাদেশের জেলে রয়েছেন। আর জসীমুদ্দিন রহমানীর মতো জঙ্গি নেতারা জেলের বাইরে। যা নিয়ে বারবার ভারত উষ্মা প্রকাশ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও কূটনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের এই কট্টরপন্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার যেমন পহেলগাঁও ঘটনার পর পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর অভিযান করেছে, তেমনই বাংলাদেশেও এই ধরণের অভিযান করতেই পারে। যার পটভূমি নাকি তৈরি হচ্ছে নয়া দিল্লিতে। আর মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার সেই পটভূমি তৈরি করতে সাহায্য করছে নয়া দিল্লির পরামর্শ না শুনে, নিজেদের মতো করে কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের কথায় দেশ চালিয়ে।












Discussion about this post