শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু মহম্মদ ইউনূসের সরকার বিভিন্ন দিক থেকে ব্যর্থ বলে দাবি করেন সেদেশের বহু মানুষ। আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে হু হু করে। বেকারত্ব বাড়ছে। কিন্তু লাগাম টানতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এত সখ্যতা সরকারের, যে রাজনৈতিক দলের মাথার উপর প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের আশীর্বাদ রয়েছে, সেই জাতীয় নাগরিক পার্টি বলে দিল এই সরকার ব্যর্থ। তবে কি সরকারকে ব্যর্থ বলে এনসিপি নিজেই আইন শৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিল? তবে কি এনসিপি অঙ্গুলি হেলনে বাংলাদেশের প্রশাসন কাজ করবে? সেই বাস্তবতার দিকে কি এগিয়ে যাচ্ছে এনসিপি? আসলে কি হতে চলেছে?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে ব্যর্থ বলে দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির। সেখান থেকেই তাদের দাবি, তারাই দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ করবে। এমনকি তারা একটি তারিখও ঘোষণা করেছে। আগামী ৩রা অগাস্ট শহীদ মিনারে তারা জুলাই সনদ ঘোষণা করবে। কিন্তু তাতে কি থাকবে? অনেকে বলছেন, সেখানে অবশ্যই থাকবে, জুলাই অগাস্ট এ যারা অংশ নিয়েছে, তাদের দায় মুক্তি। ভবিষ্যতে যে সরকারি আসুক না কেন, তারা যেন কোনভাবেই তাদের অপরাধী বলে কাঠগড়ায় তুলতে না পারে। বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে না পারে। আরও একটি প্রশ্ন উঠছে, যখন তারা নিজেরাই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করবে , সেখানে কি তারা ঘোষণা করবে, ৭২ এর সংবিধান আর মানা হবে না? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা নিজেদের মতো কিছু বিষয় উত্থাপন করে সরকারের হাতে ধরিয়ে দেবে। তবে কি সেরকমই সরকারের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে? বলা হবে, যে এই সংবিধানের আলোকেই দেশ চলবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেখানেই বড় বিপদটা হতে পারে। কারণ বর্তমান সরকার, বর্তমান সংবিধান মেনেই সমস্ত কাজ করছে। ফলে ১০ মাস ধরে করা সমস্ত কাজ অবৈধ হয়ে যেতে পারে। তখন ভয়াবহ আবহ তৈরি হতে পারে। জুলাই শেষ দিক কিংবা অগাস্টে কি হতে চলেছে, এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন এটা। দেশ কি চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কি করছে? অনেকে বলছেন, সেনাবাহিনী নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেকে বলছেন, সেনাবাহিনীর উপর জাতিসংঘের চাপ এবং আমেরিকার চাপ রয়েছে। তাই তারা নাকি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছে। যাতে সরকারের সঙ্গে কোনওরকম বিরোধ তৈরি না হয়। এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবেন? তবে কি নতুন কোনও সরকার আসতে পারে? সেই পথেই কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ? নাকি সামরিক অভ্যুত্থান হতে চলেছে ? অনেকে বলছেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতেই পারে বাংলাদেশের। আসলে কি হতে চলেছে বাংলাদেশে? এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।












Discussion about this post