দিন দিন যেভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে তাতে আসন্ন দুর্গাপুজোর সময় পাতে পদ্মার ইলিশ মিলবে কিনা সেই চিন্তায় রয়েছে অপামর বাঙালি। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির পাতে সাধের পদ্মার ইলিশের জোগান দেওয়া নিয়ে চিন্তায় কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীরাও। বিশেষ করে যখন সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ৯ ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তরজা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে এপার বাংলার ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’। যারা বাংলাদেশ থেকে মাছ আমদানি ও রফতানি করে বিগত কয়েক দশক ধরে। তাঁরাই এখন আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হল বলেই জানা যাচ্ছে। আদৌ কি এবার পদ্মার ইলিশ আসবে কলকাতায়?
ভাজা থেকে ভাপা, বাঙালির কাছে উৎসবে আনন্দ মানেই মাছের রাজা ইলিশ। এদিকে ঝেঁপে বর্ষা আসতেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মাছ বাজারগুলিতে ইলিশের ছড়াছড়ি। ৮০০ থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা কেজি দরে ইলিশের দাম এই মুহূর্তে। কিন্তু যে রূপালী শস্য বাঙালির অতি প্রিয়, অর্থাৎ খাঁটি পদ্মার ইলিশের দেখা নাই কলকাতার বাজারে। এখন যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে. সেটা কাকদ্বীপ, দিঘা-শঙ্করপুর এবং রূপনারাণয়ের। নেই খাঁটি পদ্মার ইলিশ বা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা ইলিশ। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে সেই ইলিশ এবার আদৌ আসবে বলে মনে করছেন না এপার বাংলার বেশিরভাগ খাদ্য রসিক। কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ মৎস আমদানিকারকরা। তাই এবার আগেযভাগেই কোমর বেঁধে নেমে পড়লেন তাঁরা। যাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগেই কিছু ব্যবস্থা করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’। এই সংগঠনের তরফে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার তোড়জোর শুরু হয়েছে। এপার বাংলার ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’। তবে তাঁরা যে চিঠি দিয়েই হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না, সেটাও স্পষ্ট করেছেন সংগঠনটির কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তারা আলোচনাতেও বসতে চান তাঁরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি-নীতি অনুযায়ী ইলিশ শর্ত-সাপেক্ষে রফতানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে। তাই সে দেশের মৎস রফতানিকারকরা সরকারের অনুমতি নিয়েই ইলিশ রফতানি করেন। এটা শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই সরকারের অনুমোদন ছাড়া ইলিশ রপ্তানির সুযোগ সেখানে নেই। শেখ হাসিনার আমলে এটা কোনও সমস্যা হিসেবে গণ্য হতো না। ভারত ভালো পরিমান ইলিশ পেত বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু হাসিনার পতন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে ভাবে ফাটল ধরেছে, তাতে এ বছর ইলিশ আদৌ আসবে কিনা সন্দেহ। যা ভারতীয় মৎস আমদানিকারকদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জও। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল দাস জানিয়েছেন, গত বছর ৫ হাজার টন ইলিশ আমদানির জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। দুর্গাপুজোর সময়ে ৩ হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল ইউনূস প্রশাসন। তাও আবার শেষ মুহূর্তে আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টনের মতো ইলিশ এসেছিল। টাটকা অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই ব্যবস্থা নিতে চলেছে ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’।
সূত্রের খবর, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছের রফতানির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লক্ষ মার্কিন ডলার। ইলিশ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে পাবদা, ভেটকি, পুঁটি মাছ আমদানি করে ভারত। আবার ভারত বাংলাদেশে রফতানি করে বিপুল পরিমাণে শুঁটকি, লটে, কাঁচকি, রুই, কাতলা, ম্যাকারেলের মতো মাছ। আবার ভারতের বিমানবন্দরের পরিকাঠামো ব্যবহার করেও বাংলাদেশের মাছ রফতানিকারকরা ইউরোপ-আমেরিকায় মাছ পাঠাতেন। যা এখন বন্ধের মুখে ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করায়। ফলে বাংলাদেশের মৎস ব্যবসায়ীরা প্রবল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মাছ আমদানিকারী সংস্থাগুলির দাবি, গত পাঁচ-ছ’বছরে বাংলাদেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে, তার মাত্র ০.২৯ শতাংশ ভারতে এসেছে। আর বেশিরভাগটাই কলকাতা বা দিল্লি বিমানবন্দর দিয়ে চলে যায় বিদেশে। বাংলাদেশ সরকার সে দেশের মানুষের ইলিশের চাহিদা মিটিয়ে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য কিছু পরিমাণ ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেয়। তেমনই দাম একটু চড়া হলেও পদ্মার ইলিশ চেখে দেখতে পুজোর সময় এ পারের বাঙালিরা মুখিয়ে থাকেন। আর সেই টোপ দিতেই এবার কলকাতার মৎস আমদানিকারক সংগঠন ইউনূস সরকারকে চিঠি দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেন। এখন দেখার আর্থিকভাবে বেহাল বাংলাদেশের তদারকি সরকার এই আহ্বানে সাড়া দেয় কিনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post