ফের এক অভ্যত্থানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। কোটা বিরোধী ব্যবস্থার অবসানের দাবিতে হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল হাসিনা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে। গত বছর ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে আরও এক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে পদ্মাপাড়ে। এবার সেই অভ্যুত্থানের নিশানায় রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে আরও একটি অভ্যুত্থানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সরকার পতন নয়, অভ্যুত্থানের লক্ষ্য হিসাবে থাকবে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নিজে সরে না গেলে তাঁকে অপসারণের কোনও সুযোগ নেই। ফলে এই অভ্যাউত্তানের উদ্দেশ্যে বঙ্গভবন ঘেরাও করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পাশাপাশি সরকার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে তাঁকে সরে যেতে চাপ দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থান কারী প্রথম সারির নেতাদের দাবি বর্তমান রাষ্ট্রপতি পূবর্তন হাসিনা সরকারের আমলের, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এবার তাকে অপসারিত করে অভ্যুত্থানের অসম্পূর্ণ কাজ পূর্ণ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,আরও একটি ৫ অগস্ট অর্থাৎ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে বুধবার বন্দর নগরী চট্টগ্রাম দিনভর উত্তপ্ত করে তোলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সক্রিয় করতেই চট্টগ্রামে রাস্তা অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এই নয়া অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছে জুলাই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী জুলাই মাসেই জুলাই ঘোষণাপত্র পেশ করার ইউনুস সরকারের। কিন্তু এই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সরকার ব্যর্থ হলে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছেন, সরকার নয়, তারাই জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবে। তাতে সংবিধান বাতিল এবং গণপরিষদের নির্বাচনের কথা উল্লেখ থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে যে সম্ভবনা গুলি উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম নির্বাচন পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুকবুকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে বসানোর প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার তরফ থেকে তারেক রহমানকে লন্ডন বৈঠকে দেওয়া হয়েছিল কিনা তা বা সে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারেক রহমান সঠিক গ্রহণ করেছেন কিনা তা নিয়ে একটু জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণের লন্ডন বৈঠকি এখন সবচেয়ে বেশি রহস্যজনক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সে দেশে। আরো একটি সম্ভাবনা সেটি হল সংবিধান স্থগিত করে প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হতে পারে এবং প্রধান উপদেষ্টা পদে দেখা যেতে পারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপপ্রধান উপদেষ্টা পদে বুঝতে পারেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। এরপর সেই সরকারের অধীনে উপদেষ্টা মন্ডলীতে থাকবে বিভিন্ন দলের নির্বাচিত প্রতিনিধরা। অর্থাৎ এখন সংবিধান স্থগিত করে যদি এই নতুন সরকার পুনর্গঠন করা হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হবে। সে নির্বাচন আদৌ কবে হবে সেটারও সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারবে না।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের এই বর্তমান পরিস্থিতিতে যার অন্যতম ভূমিকা ছিল তিনি হলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যার ওপর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা ছিল সাধারণ মানুষের সেই বিশ্বাস ও আস্থায় চির ধরেছে। সেই সেনা প্রধানের সম্মতি কি আছে সংবিধান স্থগিত করে জাতীয় সরকার গঠনে? কারণ এই সংবিধান স্থগিত করার জল্পনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল, আর স্বাভাবিকভাবেই সংবিধান স্থগিত করেই জাতীয় সরকার গঠন করা হলে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চপ্পুকে তার পথ থেকে অপসারণ করা হবে তেমনি সেনাপ্রধান কেউ তার পর থেকে সরানো হবে। এই বিষয়গুলিতে এখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী? সমস্ত ডিজাইন গুলি কি বুঝতে পারছেন সেনাপ্রধান? দেশকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post