চলতি বছর জুলাই অগাস্টে কি হতে চলেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ফের কি পাল্টে যাবে বাংলাদেশের রাজনীতির ছবি? এই জুলাই আগস্ট থেকে আবারও দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ? এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত ও আমেরিকাও হস্তক্ষেপ করবে? চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে জোট বেঁধে ইউনুস তার ক্ষমতাকে যেভাবে দৃঢ় করতে চাইছে তার দ্বারা কি আগামী পাঁচ বছর তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে যাবেন? নাকি লন্ডন বৈঠকের সমঝোতা অনুযায়ী আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন করিয়ে স্থায়ী সরকার স্থাপন করবেন মোহাম্মদ ইউনুস? এই ধরনের নানাবিধ প্রশ্ন উঠে আসছে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে। প্রশ্নগুলি স্পষ্ট হলেও এর উত্তর পাওয়া কঠিন।
বাংলাদেশের যেভাবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হচ্ছে সেখানে যে সাধারণ প্রশ্ন বলে উঠছে তার উত্তর পাওয়া কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে কারণ যারা এই প্রশ্ন তুলছে আর যারা এই প্রশ্ন করছে আর যারা এর উত্তর দেবে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলি, শুধুমাত্র দেশে বিদেশে যখন চাপের মুখে পড়ে এবং সমাজ মাধ্যমে কোন বিষয়ে ভাইরাল হয়ে যায় তখনই হয়তো তারা মুখ খোলেন, এছাড়া দেশ এবং জাতির প্রসঙ্গে কার্যত নির্বিকার থাকতেই দেখা যায় অন্তর্ভুক্তি সরকারকে।
আর এই আলোচিত পরিস্থিতির মাঝে জল্পনা শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বা প্রধান কমিশনার এর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের দাবি, পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করার লক্ষ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের। যার ফলে এই প্রধান কমিশনারের অধীনে নির্বাচন করানো হলে তা কখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেনা। ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক আছে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের যেটি স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথমবার ঘটেছে বলেই জানা গিয়েছে। এবং ইতিমধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশন নুরুল হুদা সহ আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ সেখানেই ফের নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবি চাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে।
এছাড়াও ফের এক অভ্যত্থানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। কোটা বিরোধী ব্যবস্থার অবসানের দাবিতে হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল হাসিনা সরকার পতনের এক দফা দাবিতে। গত বছর ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে আরও এক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে পদ্মাপাড়ে। এবার সেই অভ্যুত্থানের নিশানায় রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এবছর জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে আরও একটি অভ্যুত্থানের দিকে এগোতে পাড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সরকার পতন নয়, অভ্যুত্থানের লক্ষ্য হিসাবে থাকবে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নিজে সরে না গেলে তাঁকে অপসারণের কোনও সুযোগ নেই। ফলে এই অভ্যাউত্তানের উদ্দেশ্যে বঙ্গভবন ঘেরাও করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পাশাপাশি সরকার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে তাঁকে সরে যেতে চাপ দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।












Discussion about this post