বিদেশ সফরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনে অত্যন্ত দূরদর্শিতার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও তুলে ধরেছেন। যেগুলিকে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাবে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে চাপে ফেলছে ভারত। এমনিতেই আমেরিকার জালে ফেঁসেছেন মহম্মদ ইউনুস। সেই জাল থেকে বেরোতে পাকিস্তান ও চীনের সহায়তায় একটি জোট তৈরি করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মার্কিন সেক্রেটারি মার্কো রুবিও এর একটি টেলিফোনে বিপর্যস্ত মহম্মদ ইউনুস।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের দৃঢ়তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে, কোয়াড বৈঠকটি একটি উন্মুক্ত এবং নিয়ম-ভিত্তিক আঞ্চলিক শৃঙ্খলার প্রতি গ্রুপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রী বলেন “আমি শুরুতেই বলতে চাই যে আমরা সকলেই একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিকের দেশগুলির পছন্দের স্বাধীনতা থাকা অপরিহার্য, যা উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
অর্থাৎ, তিনি সামুদ্রিক ক্ষেত্র সচেতনতা, সরবরাহ সহযোগিতা, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক সমন্বয় সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে কোয়াডের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে ব্লকটি “আরও সংহত, প্রাণোচ্ছল এবং মনোযোগী” হয়ে উঠছে। আমেরিকায় দাঁড়িয়ে ইন্দো প্যাসিফিকের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বললেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর। অর্থাৎ চীনের কর্তৃত্ব প্রতিহত করতে তৈরি ভারত। অর্থাৎ যে চীন এখন আমেরিকার সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তিনি যে সবচেয়ে বড় ভুল চালটি দিয়েছেন, সেটি হল তিনি চীনের সঙ্গে এই ইন্দো প্যাসিফিক সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেছেন, যে চিনকে চাপে ফেলতে উদ্যত আমেরিকা।
এরপর ভারতের বিদেশ মন্ত্রী সরাসরি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে বিশ্বকে অবশ্যই জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করতে হবে। ভুক্তভোগী এবং অপরাধীদের কখনই সমান করা উচিত নয়। এবং ভারতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব। আমরা আশা করি আমাদের কোয়াড অংশীদাররা এটি উপলব্ধি করবে,”
স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে পাহেলগাও হামলার প্রেক্ষাপটে এই জোরালো বিবৃতিটি এসেছে, যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছিল,যা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায়, কোয়াডের মতো বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীগুলিতে সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের ক্রমবর্ধমান দৃঢ়তার উপর জোর দেয়। কিন্তু ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের নাম সবার উপরে থাকলেও, চিনের কর্তৃত্ব প্রতিহত করতে পাকিস্তানকে বিশেষভাবে প্রয়োজন আমেরিকার, ফলে ভারত এক্ষেত্রে পাকিস্তানকে সাইড লাইনে রাখতে পারবে না, এখন ভারতের নিশানয় রয়েছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে খুশি করতে গোপন চুক্তিতে উদ্যত মহম্মদ ইউনুস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক থেকে রেহাই পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির খসড়া বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে।
এরপরই, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর টেলিফোনালাপের খবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, বন্ধুসুলভ ও গঠনমূলক। এর মাধ্যমে দুই দেশের চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করতে তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সেই সঙ্গে ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতেও অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। অর্থাৎ,এখন বাংলাদেশ আমেরিকার সহায়তাতেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে নিজেদেরকে সক্রিয় করে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছে।
অস্থির আঞ্চলিক পরিবেশের মধ্যে ভারতের কৌশলগত সম্পৃক্ততার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কোয়াড, বা চতুর্ভুজ নিরাপত্তা সংলাপ। এই বছরের শেষের ভারত পরবর্তী কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে চলেছে।












Discussion about this post