গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছে ছাত্র সমন্বয়করা। তাদের চলমান এই রাজনৈতিক যাত্রায় বাড়বাড়ন্ত বৃদ্ধি করতে সাহস যোগাচ্ছে স্বয়ং সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সম্প্রতি ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোয়েল সমাজ মাধ্যমের পোস্টে ভয়ঙ্কর সাহসিকতার পরিচয় দিলেন।
পটিয়া থানা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে এমনই এক দাবী করে নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্ট করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল। পোস্টটির দাবিটি ভয়ংকর শুনতে লাগলেও এর আগে সেনা ক্যান্টনমেন্ট ভেঙে গুরিয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তখন বর্তমানে এই হুশিয়ারি আর অবাক করার মত কিছু নয়। পুটিয়া থানা কে কেন্দ্র করে বিগত কিছুদিন ধরেই একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। পটিয়া শহীদমিনার চত্বর থেকে ছাত্রলিগের এক নেতাকে আটক করে বৈষম বিরোধী ছাত্রনেতারা। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশের কাছে গ্রেফতারের দাবী জানানো হয় কিন্তু তার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ নেই যার ফলে তাকে গ্রেফতার করতে অপারকতা প্রকাশ করে। কেন তাকে আটক করা হলো না, এই দাবিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। এরপর থানার মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতার উপর মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি করা হলো, আর সেখানে পুলিশ বাধা দিতে আসলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন। পুলিশের সংঘর্ষের পর থেকে থানা অবরোধ করে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের সাথে এই কর্মসূচিতে যোগ দেয় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরাও। এই ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়া প্রতিবাদ শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা।
চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ইবনে হোসাইন জিয়াদ দাবি করেছেন, ছাত্রলীগ নেতাকে বাঁচাতে ওই দিন রাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে পটিয়া থানার ওসি। এরপরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে পটিয়া থানার ওসির পদত্যাগ দাবিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলনরত থাকবে বলেই হুশিয়ারি দেয় বলে সূত্রের খবর।এরপর দিন অর্থাৎ বুধবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ফেসবুকে লিখেছেন, “পটিয়া থানা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।”
উল্লেখ্য শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সারাদেশে দলবদ্ধভাবে মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে অন্তগতি সরকারের মদতে।
মব থামাতে সরকার ও সেনার তরফে ঘোষণা দেওয়া হলেও, কেন একের পর এক মব সৃষ্টি করছে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা সেই প্রশ্ন এর উত্তরে আরিফ সোহেল বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্রের সেই পুরনো সিস্টেম রয়েই গেছে। আমরা এটি নিয়ে কথা বলতে গেলে, নিজ থেকে উদ্যোগ নিতে গেলে এটাকে মব বলা হয়। এটা মব নয়, বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের একটা প্রতিক্রিয়া”।
ছাত্রলীগ নেতাকে ধরা নিয়ে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো সেই নিয়ে যদিও পটিয়া থানার তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি কিন্তু,চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেছেন, গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ যা করেছে সেটি সকলের নিরাপত্তার স্বার্থেই করেছে। এখন এটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।












Discussion about this post