বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। তিনিই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তা। আবার বর্তমানে তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত নাম। অন্যদিকে শেখ হাসিনা, যিনি বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা, জনপ্রিয় নেত্রী। বর্তমানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশছাড়া। তবুও শেখ হাসিনাকে সবদিক থেকে অপদস্ত করতে কোনও চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে শতাধিক মামলা। যারমধ্যে খুন, অপহরণ, গণহত্যা, ষড়যন্ত্রের মতো মারাত্মক সব অপরাধ সংক্রান্ত মামলা। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে একাধিক মামলার শুনানি চলছে। তবে একটি মামলার সাজা ঘোষণা হয়ে গেল সম্প্রতি। তাতে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। এক বছরও হয়নি, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। অথচ কী নজিরবিহীন তৎপরতায় মামলার বিচার চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটা বিচারের নামে প্রহসন। আসলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পুরোনো রাগ থেকেই প্রতিহিংসাবসত এই কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
আসুন একবার ফিরে দেখা যাক ইউনূস ও হাসিনার মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপোড়েন। একাধিক বিষয়ের ওপর মুহাম্মদ ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিবাদ সর্বজনবিদিত। তবে একটা সময় শেখ হাসিনাই ইউনুসকে তুলে ধরেছিলেন। যাইহোক, গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠা করে, স্বল্পসঞ্চয় প্রকল্পে দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন মহম্মদ ইউনুস। বহু মানুষ তাতে উপকৃত হন বলেও শোনা যায়। এর পিছনে তাঁর হাত রয়েছে বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু একসময় দুজনের সম্পর্কে তিক্ততা আসে। সেই সময় শেখ হাসিনা ইউনূসকে গরিবের রক্ত শোষণকারী বলেও আক্রমণ করেছিলেন। আবার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্যেও ইউনুসকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিযোগ ছিল, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাঙ্ক অর্থ বরাদ্দ করলে, ইউনুসের প্ররোচনায় সেই বরাদ্দ আটকে যায়। এরপর বিষয়টি এখানেই থামেনি। হাসিনা বলেন, ‘ এমডি পদের লোভে মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পের টাকা বন্ধ করেছে। তাঁর উক্তি যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল সে সময়। হাসিনা বলেছিলেন, ইউনূসকে পদ্মা নদীতে দুইটা চুবানি দিয়ে তোলা উচিত। মরে যাতে না যায়, পদ্মা নদীতে একটু চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি শিক্ষা হয়।
বাইট – শেখ হাসিনা (যদি বাইট পাওয়া যায় )
অন্যদিকে সরকারি অনুমোদন ছাড়া বইয়ের রয়্যালটির টাকা-সহ অন্য ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছিল মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ তুলেছিল হাসিনার সরকারই। ইউনূসের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক মামলা দায়ের হয়। দুজনের সম্পর্কে তিক্ততা এমন পর্যায়ে ছিল যে, শেখ হাসিনা এই বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপুঞ্জের তৎকালীন মহাসচিবকে চিঠি পর্যন্ত দিয়েছিলেন ইউনূসের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকে।
যদিও এক সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনুস বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেন— আমি দেশের সর্বোচ্চ ডাকাত, সন্ত্রাসবাদী কিংবা আমি অপরাধী, সেরা চোর। আমাকে বলেন, আমি সুদখোর, ঘুষখোর। এমন সব কটু শব্দ ব্যবহার করেন যেন মনে হয় আমার সম্পর্কে ধারণা খুবই খারাপ। তিনি আরও বলেছিলেন, সম্পর্কে কেন ফাটল ধরেছিল সেটা বলতে পারব না। তবে আমি বলতে পারি, আমার তরফ থেকে হয়নি। যদিও কয়েক দশক দেশের বাইরে থাকার পর এক মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। আর এবার তাঁর প্রতিহিংসা পালন করার পালা। তাই শেখ হাসিনাকে যে কোনও মূল্যে অপদস্ত করতে, তদন্তের নামে প্রহসন চালিয়ে বিচার চালানো হচ্ছে। যাতে হাসিনা অদূর ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে ঢুকতে না পারেন। বাকিটা সময়ই বলবে, এই লড়াই কে জেতেন আর কে হারেন!












Discussion about this post