মোঃ ইউনুসের যে কলঙ্ক, ব্যর্থতা এবং পরাজয় রয়েছে তার ফলে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকারকে ধিক্কারের সম্মুখীন হতে হবে জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের ঘৃণা এবং ক্রোধের শিকার হতে হবে এই সরকারকে কারণ দেশ জুড়ে মব ভায়োলেন্স এ মদত দিয়েছে এই সরকার। এবং মব ঠেকাতে সরকারের যে শক্তি ও ক্ষমতা সেগুলিকে তারা ব্যবহার করেনি। দীর্ঘ দশ মাসে অন্তর্ভুক্তি সরকারের শাসনামলে, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও এলাকা সরকার, পুলিশ প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল না ছিল মবের নিয়ন্ত্রণে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগে পরাধীন বাংলাদেশ চারিদিকে দেখা গিয়েছিল বিশৃঙ্খলা। হামলা লুটপাট ভাঙচুর গণধর্ষণ দৈনন্দিন এক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের দিকে আতঙ্ক অপ্রান মাসের হুমকি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর কোন জায়গায় সুরক্ষিত ছিল না সে দেশের নাগরিকের জন্য। এরপর পূর্ব পাকিস্তানের শান্তির স্থিতিশীলতা এবং দুবৃত্তদের জুলুম সবকিছুকে প্রতিহত করতে দেশকে স্বাধীনতার দাবিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে তো একাধিক শহীদ যোদ্ধারা। এরপর পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ শান্তি স্থিতিশীলতা আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধের পর ২০২৪ এ উত্তাল হতে দেখা গেল সেই দেশ। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তৎকালীন হাসিনা সরকারের বিরোধিতা করে এক দফা দাবিতে সরকার পতন করতে সক্ষম হয়। সেই সময় সরকার পতনের পর গঠিত হয় মোহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর সেই সরকারের জমানায় ফের মবের মুলক হয়ে ওঠে পদ্মাপাড়ের দেশ। শুরু হলেও চারিদিকে নারী নির্যাতন ধর্ষণ লুটপাট খুন গুম ইত্যাদি। সরকার সেখানে নির্বিকার। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল না। কারণ বেশ কিছুদিন আগেই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কড়া ভাষায় জানানো হলো দেশে মব ভায়োলেন্স বরদাস্ত করবে না সেনাবাহিনী। তখন সেনাবাহিনীর তরফে করা ঘোষণার মাধ্যমে অনেকেই মনে করেছিলেন দেশজুড়ে মত সৃষ্টিকারীরা আতঙ্কে পিছু হটবেন। কিন্তু মব সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর এই বার্তায় আতঙ্কিত না হয়ে উপরন্ত একের পর এক থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে মেতে উঠলো, যেমন প্রথমেই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা। কেএমপির সদরদফতরে তালা মেরে সামনের খান জাহান আলী সড়ক অবরোধ করেন তারা। এসময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, নগরীতে বারবার খুনের মতো ঘটনা ঘটলেও কমিশনার জুলফিকার আলী নগরবাসীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা করেন তারা। এখানেই থেমে থাকে নি এই মব সন্ত্রাসীরা, গত মঙ্গলবার রাতে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে পটিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর নামে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চায়নি। এরপরই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রনেতারা।এবং পটিয়া থানার ওসিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্বর। অন্যায় দমন করতে গিয়ে অন্যায় এর শিকার হতে হয় ওই পুলিশকর্তকে। এর পরই পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্তির পদত্যাগের দাবি তোলে ছাত্রনেতারা। অর্থাৎ পরপর দুটি থানা ঘেরাও এর ঘটনা ছাত্রদের এই মব ভায়োলেন্সকে নতুন একটি মাত্রা দিয়েছে। এখন এই মব ভায়োলেন্সার এর পরিধি আরও কতদূর বিস্তৃত হয় সেটাই দেখার। পাশাপাশি যে সরকারের অধীনে দেশে একের পর এক প্রকাশের গণধর্ষণ করা হয় এবং সরকারের তরফে কোন বিচার করা হয় না সেই রাষ্ট্রের সরকারের ক্ষমতা কতদিন বহাল থাকে সেটাও হয়তো সময়ই বলবে।












Discussion about this post