মার্কিন ডিপস্টেটের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মোহাম্মদ ইউনুস গোটা বাংলাদেশকে যে পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তাতে দেশের মানুষ তার বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ালো। তার অধীনে সরকার সেই সরকারও দেশের ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হল, আর সেই ক্ষমতা দিয়ে পৌঁছাচ্ছে উৎশৃঙ্খল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের হাতে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বৈধতা সৃষ্টি করেছে, এবং আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন মহম্মদ ইউনুস, যে দেশ প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে মোঃ ইউনুস ও তার দেশকে ছুড়ে ফেলতেও পিছু হটবেনা।
মূলত দেশের সাধারণ নাগরিক বিশ্বাস বা ভরসা রাখেনা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ওপর, সরকারি চাকরিজীবী কর্তাদের বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে পারেননি এমনকি তার উপদেষ্টা মন্ডলী ভিতরে ভিতরে বিরোধিতা করছে প্রধান উপদেষ্টার। অন্যদিকে ভারতও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খরগোহস্ত। অন্যান্য বিদেশী রাষ্ট্রগুলিও মোহাম্মদ ইউসুফ বাংলাদেশকে সাহায্য করতে নারাজ।
আর এই পরিস্থিতিতে এই সরকারের ঘনিষ্ঠ ছাত্র নেতারা প্রতিমুহূর্তে বাংলাদেশ জুড়ে মব সৃষ্টি করে সরকারের ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তুলছে। এই আবহেই জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে আরও একটি অভ্যুত্থানের দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ এমনটাই দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু এবার সরকার পতন নয়, অভ্যুত্থানের লক্ষ্য হিসাবে থাকবে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নিজে সরে না গেলে তাঁকে অপসারণের কোনও সুযোগ নেই। ফলে এই অভ্যাউত্তানের উদ্দেশ্যে বঙ্গভবন ঘেরাও করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পাশাপাশি সরকার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে তাঁকে সরে যেতে চাপ দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থান কারী প্রথম সারির নেতাদের দাবি বর্তমান রাষ্ট্রপতি পূবর্তন হাসিনা সরকারের আমলের, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এবার তাকে অপসারিত করে অভ্যুত্থানের অসম্পূর্ণ কাজ পূর্ণ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,আরও একটি ৫ অগস্ট অর্থাৎ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে বুধবার বন্দর নগরী চট্টগ্রাম দিনভর উত্তপ্ত করে তোলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সক্রিয় করতেই চট্টগ্রামে রাস্তা অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এই নয়া অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছে জুলাই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী জুলাই মাসেই জুলাই ঘোষণাপত্র পেশ করার ইউনুস সরকারের। কিন্তু এই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সরকার ব্যর্থ হলে, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেছেন, সরকার নয়, তারাই জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবে। তাতে সংবিধান বাতিল এবং গণপরিষদের নির্বাচনের কথা উল্লেখ থাকবে।
অন্যদিকে দেখা গেল শুধুমাত্র দেশের সাধারণ জনগণ নয় পদাধিকারী ব্যক্তিরাও আজ বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের মদের শিকার হচ্ছেন, আর সেই ঘটনার এবার পটিয়া থানার ওসিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল থানায় এলাকা। অন্যায় দমন করতে গিয়ে অন্যায়ের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তার পদত্যাগের দাবিতে থানা ফেরাও কর্মসূচি নিয়েছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা। আর এবার বৃহস্পতিবার রাতে পটিয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হলো। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মহম্মদ ইউনুসের বিদায়ের জন্য আরও একটি পথ প্রশস্ত করে দিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন পটিয়ার ওসিকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পটিয়া শহীদমিনার চত্বর থেকে ছাত্রলিগের এক নেতাকে আটক করে বৈষম বিরোধী ছাত্রনেতারা। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশের কাছে গ্রেফতারের দাবী জানানো হয় কিন্তু তার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ নেই যার ফলে তাকে গ্রেফতার করতে অপারকতা প্রকাশ করে। কেন তাকে আটক করা হলো না, এই দাবিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। এরপর থানার মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতার উপর মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি করা হলো, আর সেখানে পুলিশ বাধা দিতে আসলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন। পুলিশের সংঘর্ষের পর থেকে থানা অবরোধ করে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের সাথে এই কর্মসূচিতে যোগ দেয় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরাও। এই ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়া প্রতিবাদ শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা।
তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এবং ছাত্র সমন্বয়কদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি চারিদিকে নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তার করতে যেভাবে মব সৃষ্টি করছে তাতে মহম্মদ ইউনুসের বিপদ হয়তো একেবারে দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। কারণ ভারতের সঙ্গে বিরোধিতার মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহায়তা যেমন হারিয়েছে ইউনুসের বাংলাদেশ তেমনই ভারতের নিশানায় এখন শুধুই ইউনূসের বাংলাদেশ আর সেই দেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক দেশ তৎপর তৎপর।












Discussion about this post