বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল সর্বজনবিদিত। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পালাবদল হলে সেদেশের অন্তরবর্তী সরকার বারংবার ভারত সরকারকে নাম না করে আক্রমণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূস তিনি ভারত বিরোধী হিসাবেই চিহ্নিত। এমনকি বিদেশের মাটিতে দারিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতেও দেখা যায় ইউনুসকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন শুরু হলে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে ভারত বিদ্বেষ। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে শুরুতে ভারত বাংলাদেশ সরকারকে সমীহ করে চললেও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে,কঠোর হতে শুরু করেছে ভারত সরকার। ভারতকে নিশানা করে মহম্মদ ইউনূস যে মন্তব্য গুলি করেছেন তার পাল্টা কড়া উত্তর দিচ্ছে ভারত৷ দফায় দফায় বাংলাদেশের এই বিরূপ মন্তব্যের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ভারত সরকার। সম্প্রতি জারি হয়েছে তেমনই এক নির্দেশিকা৷ যার ছেড়ে আরো বিপর্যস্ত হতে পারে মোহাম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেকাংশ ই নির্ভরশীল সে দেশের পাট উৎপাদন ও বস্ত্র শিল্পের উপরে৷ আর সেদেশের সেই নির্ভরশীলতাকেই এবার নিশানা করেছে ভারত৷ ভারতে বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্যের উপরে অনেকটাই নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি।গত মাসে থেকে বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ৯ ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ভারত। ভারত ল্যান্ড পোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশি ৯ পণ্য ঢুকতে পারবে না ভারতে৷ এবার শুক্রবার ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে।
স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ করা এসব বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতো ও বিশেষ ধরনের কাপড়।
এ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে তিন মাসে তিন দফায় বিধিনিষেধ আরোপ করল পড়শীদেশ ভারত। এর আগে গত ১৭ মে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় প্রভৃতি পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ দিয়েছিল। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করতেও দেখা দিয়েছিল ভারত সরকারকে
গত ৯ এপ্রিল ভারতের কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সুবিধা প্রত্যাহার করেছিল ভারত।
শুক্রবারের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটানে ওই ৯ ধরনের পণ্য রফতানিতে কোনও বিধিনিষেধ নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে একটি পথ খোলা রেখেছে ভারত। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে মুম্বইয়ের নভোসেবা বন্দর দিয়ে এসব বাংলাদেশি পণ্য ভারতে যেতে পারবে। ভারতের দ্বারা একের পর এক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিপর্যস্ত হতে হচ্ছে মোহাম্মদ ইউনুস কে।












Discussion about this post