বাংলায় একটা কথা আছে, “ছাগল নাচে খুঁটির জোরে”। অর্থাৎ, পিছনে বড় কোনও শক্তি বা খুঁটি না থাকলে কেউ আস্ফালন করতে পারে না। আমরা কথা বলছি বাংলাদেশ সম্পর্কে। এখানে একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে, মার্কিন ডিপ-স্টেটের খপ্পরে বাংলাদেশ, নাকি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির রহস্যময় সংকটে পড়ে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস? কোন উত্তরটা সঠিক হবে, সেটা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোরদার চর্চা অব্যাহত। তবে একটা বিষয় ঠিক যে, এক করুণ সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বাংলাদেশ।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটা ধাঁধার প্রশ্ন আসতেই পারে। সেটা হল, কোন দেশ শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রকৃত বন্ধুকে শত্রু হিসেবে দেখানোর খেলায় মাতে? দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বর্তমান শাসকদল ঠিক এই ধাঁধার মতোই এগোচ্ছে। গত বছর তথাকথিত এক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী ব্যবস্থার অবসান চেয়ে শুরু হওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকার হটাও আন্দোলনের এক দফা অভিযানে পরিণত হয়েছিল। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই। যাকে মেটিকুলাস ডিজাইন বা গভীর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব বলেছিলেন স্বয়ং মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সেই দিনটির এক বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু এখনও বাংলাদেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের ডাক উঠছে। এবার লক্ষ্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। আসলে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তাঁকে সরানোর সুযোগ কায্ত নেই। তাই ফের অভ্যুত্থানের ডাক। আর মজার বিষয় হল সেই ডাক বা উ্স্কানি আসছে দেশের বাইরে থেকে। সুদূর ফ্রান্সে বসে এক স্বঘোষিত অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য গত বছর কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরণের উস্কানি ও পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। আর তাঁর পরামর্শ মেনেই চলছে আন্দোলনকারীরা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কাঁদের ইশারায় চলছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন ডিপ স্টেট যেমন মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের মসনদে বসিয়েছে, তেমনই তাঁরা এখন মরিয়া যেনতেন প্রকারেণ তাঁদের উদ্দেশ্য সাধন করে নিতে। মার্কিন ডিপ স্টেট, ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা, পাকিস্তানের আইএসআই এই চক্রান্তের জাল বুনেছে। তাঁরাই পিছন থেকে অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে ইউনূসবাহিনীকে ঠেকিয়ে রেখেছে। পিনাকী ভট্টাচার্যদের মতো স্বঘোষিত অ্যাক্টিভিস্টরা হলেন সেই ডিপ স্টেটের পুতুল। তাই তাঁরা বিদেশে রাজনৈতিক শরণার্থীর মর্যাদা পান, সুরক্ষা পান। বাংলাদেশের রাজনীতির নিবিড় পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন আর একটি ৫ অগস্ট সংঘঠিত করার লক্ষ্যেই বুধবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে দিনভর অচল করে রাখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা। পিনাকীদের পরামর্শেই এই সমস্ত চলছে। এটাকে ছাত্র-জনতার গা গরমের রাস্তা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের আরও দাবি, বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের আগে এই ধরনের অববোধ আন্দোলন আরও হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে কার্যত বিনা নোটিসে তড়িঘড়ি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় ছয় মাসের কারাবাসের সাজা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এটাও সেই পরিকল্পনার অঙ্গ। আসন্ন ৫ আগস্টে হাসিনা সরকার পতনের বর্ষপূর্তির আগেই রাষ্ট্রপতির উপর চাপ সৃষ্টি করে সরিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। আসল ঘটনা হল, চালু সংবিধান বাতিল হলে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর রাষ্ট্রপতি থাকা কঠিন। একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকেও পুনর্গঠন করতে হবে। তখন নির্বাচনের দাবি আরও বিশ বাও জলে চলে যাবে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় আরও কয়েকমাস থেকে যেতে পারবেন মুহাম্মদ ইউনূসরা।












Discussion about this post