চিনের সাথে দীর্ঘ শত্রুতা সত্ত্বেও চিন সফরে গেলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। চীনে এসসিও এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে যোগ দেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। ২০২০ র গাঁলয়ান সংঘর্ষের পর এটাই ভারতের ও চিনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কেন এই বৈঠক? এই বৈঠক কি ভারত- চিন সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে?
নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে নতুন কোন কুটনৈতিক খেলা? চীন কি আবারো ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে? নাকি ভারত নতুন কোন কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে এগোছে চীনের বিরুদ্ধে?
চলতি বছর ২৫ থেকে ২৭শে জুন চিনের সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং যোগদান করেন এবং তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকে। মূলত বৈঠকটি ২০২০ গালয়ান সংঘর্ষের পরে এই প্রথমবার ভারত এবং চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিনে পৌঁছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জং এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ পরে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটতে চলেছে। এমনকি এই বৈঠকের পর চলতি বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই এস সি ওর বৈঠক বা ভারতের প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের পর সত্যিই কি দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা কমার কোন সম্ভাবনা আছে?
দেখা গিয়েছে এস সি ও এর এই বৈঠকের পরও ভারত, চীনের কয়েকটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছে। অর্থাৎ শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকের পরেও কোনভাবেই ভারত ও চীন বেশ কিছু বিষয় একই মতামতে আসতে পারছে না। এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে কোন নতুন অধ্যায় সূচনা হচ্ছে? নাকি এটি নতুন সংঘর্ষের কেন্দ্র তৈরি করছে?
১৯৯৬ সালের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে একাধিক দেশ স্বাধীন হয়। মধ্য সে সকল স্বাধীন দেশের জন্ম হলে সেই দেশগুলিকে কাছে টানার চেষ্টা করে চীন। তার কারণ এই দেশগুলির অভ্যন্তরের প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সময় রাশিয়ার পরিস্থিতি দুর্বল থাকায় রাশিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী করে তুলতে লড়াই চালাচ্ছিল আর সেই সময়ই চীন মধ্যে এশিয়ার এই দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এখানে চীনের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে এই দেশগুলি স্বাধীন হওয়ার পরও এই দেশগুলির সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ শুরু হয়েছিল। আর সেই সময় চীন এই সীমান্ত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সেই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলিকে হাতিয়ে নিতেই চীন 1996 সালে সাংহাই ফাইভ নামে একটি গোষ্ঠী তৈরি করে। আর এই গোষ্ঠিতে যে পাঁচটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল সেগুলি হল চীন রাশিয়া কাজাকিস্তান, কিরগিস্তান, ও তাজিকিস্তান। এরপর চীন এই সীমান্ত দন্দ গুলি মিটিয়ে নেয়। কারণ চিন ওই সমস্ত দেশের খনিজ সম্পদ নিজে দেশে এনে চীনের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। এরপর দ্বন্দ্ব মিটলে ২০০১ সালে উজবেকিস্তান কে যোগ করে এই গোষ্ঠীটির নামকরণ করা হয় সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন। এরপর গোষ্ঠী বেশগুলির সঙ্গে সঙ্গে মানবসম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি স্থাপন করেছে। এরপর নতুন স্বাধীন হওয়া দেশগুলি প্রত্যাশা করে তারা চীনের দ্বারাই নিরাপত্তা পাবে। এরপর 2010 এর পরে রাশিয়া উপলব্ধি করতে পারে এই দেশগুলি রাশিয়ারই এক সময়ের অংশ। কিন্তু এই সমস্ত দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ গুলোকে লুট করছে শুধুমাত্র চীন। এরপর রাশিয়া সঙ্গে রাশিয়া সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে কৌশলগত লড়াই শুরু করে। রাশিয়া দাবী করতে থাকে এসসিও র সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। সে দাবি অনুযায়ী এসইওর সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারত কেউ আহ্বান জানায় রাশিয়া এই গোষ্ঠীতে যোগদানের জন্য। আর তখনই রাশিয়ার কৌশল গত লড়াইয়ের আচ পেতে থাকে চীন। এরপর ভারত রাশিয়া চীনের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলেও ২০২০ এর গাওয়াল সংঘর্ষ অর্থাৎ যেখানে চীনা সৈনিকরা ভারতীয় সেনার ওপর আক্রমণ করে সে ঘটনার পরেই ভারতচীন সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।। আর এরপর থেকে এসইওর অভ্যন্তরেও ভারত, চীনের বিরোধিতা করতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে চীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অধ্যায় শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকার বিশ্বযোগ্যতা অর্জনের জন্য। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার ভারত রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চীন তার জায়গা পাকা করতে চাইছে আমেরিকার সম্মুখে। কিন্তু রাশিয়ার সাথে চীনের সম্পর্ক ঠিক থাকলেও ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের জটিলতা এখনো কাটেনি। যার ফলে এই সিওর বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বৈঠক হলেও সেখানে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা গেল দুই দেশের মধ্যে।












Discussion about this post