ফের জোট বাঁধছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। বাংলাদেশে গোপন সফর পাকিস্তানি ৩ সেনা আধিকারিকের। গত ২৯ শে জুন থেকে এক সপ্তাহ ব্যাপী বাংলাদেশ সফর করেছেন তারা। পাকিস্তানি সেনা আধিকারিকদের মূল গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ক্যান্টনমেন্ট। রাখাইন মানবিক করিডোর প্রদানের ক্ষেত্রে তারা সমর্থন প্রদান করছেন তাদের সাথে সাক্ষাতের জল্পনাও শুরু হয়েছে। এই ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার তাদের মূল উদ্দেশ্য কি হতে পারে তা নিয়েও উঠেছে নানাবিধ প্রশ্ন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বিগ্ন নয়া দিল্লি।
চলতি বছর ভারতের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর সেই রেশ এখনো কাটেনি দুই দেশের মধ্যে। অর্থাৎ ভারত-পাক তিত্ততার সম্পর্ক ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে। পাশাপাশি গত এক বছর যাবত হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে যে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসেছে সে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় যেভাবে ভারত বিরোধিতা করেছে তাতে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক অবনতির দিকেই এগিয়েছে। আর এই আবহেই পাকিস্তানের সেনা আধিকারিকদের বাংলাদেশ সফর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতের। কারণ, এবার জানা যাচ্ছে এই পাকিস্তান, ভারত আক্রমণের জন্য বাংলাদেশের সহায়তা নিচ্ছে। কারণ এখন চিনের পাশাপাশি পাকিস্তানও ভারতের সেভেন সিস্টার্স এর ওপর নজরদারি চালাচ্ছে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পাকিস্তানের তিনটি উচ্চ পর্যায়ের সেনা আধিকারিক সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আর্মি ও মিলিটারীদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ এই বৈঠক চলে। পাকিস্তানি ৩ সেনা আধিকারিকের লস্কর ই তইবার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এবং তারাই বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের অন্দরে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করে, পরিস্থিতি আরও অস্থির করে তুলে সাধারণ মানুষ এবং জঙ্গিগোষ্ঠীদের দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারকে নিশানা করছে।
সূত্রের খবর এই তিন পাকিস্তানি আধিকারিক একমাস আগের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং বাংলাদেশ কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তারা পরিদর্শনে যান এবং এই ষড়যন্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে নানা রকম আলোচনা করেন রোহিঙ্গা আর্মির সঙ্গে। অর্থাৎ কিভাবে বাংলাদেশকে আরো অস্থির ভারতের চাপ সৃষ্টি করে ভারতকে আক্রমণ করা যায় সেই ষড়যন্ত্র এর জাল বোনা হয়েছে পাকিস্তানি আধুনিকদের বাংলাদেশ সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে। এর আগে চীন ভারতের সেভেন সিস্টার্সের ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা চালিয়েছিল, আর সেটি বাংলাদেশের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্গেট ছিল। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে দূরত্ব যত কমিয়েছে ভারত ততই বাংলাদেশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের শাসনকালে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বাংলাদেশের। সেটা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই হোক বা অন্যান্য কূটনৈতিক ক্ষেত্রে।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানি আধিকারিকরা বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের কাজে লাগিয়ে যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করছে তা সাউথ ব্লক বা দিল্লির জন্য প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।












Discussion about this post