ভারতের সিদ্ধান্তে বিপর্যস্ত ইউনুসের বাংলাদেশ।বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্তরকম বাণিজ্য বন্ধ করতে চলেছে ভারত! এই জল্পনা এখন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। ভারতের সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে যে বাণিজ্য এখনো চালু রয়েছে বাংলাদেশের সেই বাণিজ্যেও থাবা বাসাতে পারে ভারত। গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ইউনূসের বাংলাদেশ, এখন বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আর বাংলাদেশকে তার অবস্থান বুঝিয়ে দিতেও তৎপর ভারত।
গোটা দেশ ও জাতিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকার। নির্বাচন নিয়ে টানা পড়েন এখনো অব্যাহত। জামাতের তরফ থেকেও সম্প্রতি জানানো হয়েছে নির্বাচন নিয়ে ভাবার সময় এখন নয়। অন্যদিকে, মেটাকিউলিস ডিজাইনের মদত দাতারাও বাংলাদেশ জুড়ে নির্বাচনের বদলে মব সৃষ্টি করে গোটা দেশকে বিপন্ন করে তুলছে। যেখানে পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সকলেই নিশ্চুপ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনের শুরু থেকেই সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ভারত বিরোধিতার কারণে প্রতিমুহূর্তে ভারতের তরফে সতর্ক করা হয়েছে ইউনূসের বাংলাদেশকে। কিন্তু ফের সে দেশের তরফে এসেছে শুধুই ভারত বিদ্বেষ।
আর এর পাল্টা হিসেবে ভারত একাধিক বার বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত বিরোধিতার ফল।
সম্প্রতি ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে রেডিমেড পোশাক, খাবারের মতো বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যে পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিলো, স্থলবন্দর বন্ধ করার ফলে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ আমদানিতে কোপ পড়েছে। বাংলাদেশি রেডিমেড পোশাক, খাদ্যসামগ্রীর মতো কিছু দ্রব্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনে থাকা বৈদেশিক বাণিজ্য দপ্তর। স্থল বন্দরগুলি দিয়ে আর এই জাতীয় পণ্য ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। অবশ্য ভারত হয়ে নেপাল বা ভুটানের মতো দেশে এই সমস্ত সামগ্রীও পাঠাতে পারে বাংলাদেশ। সেই বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি কেন্দ্র। বাংলাদেশ থেকে আসা মাছ, এলপিজি, ভোজ্য তেলের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সেগুলি যেমন ভারতে আসতে পারবে, ঠিক তেমনই ভারত হয়ে অন্য দেশেও পৌঁছানো যাবে। আর পোশাকের জন্য কেবল খোলা রাখা হয়েছে কলকাতা এবং মুম্বইয়ের বন্দর।
অর্থাৎ ভারতের স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছে ভারত এবার সমুদ্র বন্দরটিও বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি বন্ধ করবে। জিটিআরআই এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্থলবন্দর বন্ধ করার ফলে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ আমদানিতে কোপ পড়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতীয় মুদ্রায় এই সমস্ত পণ্যের বার্ষিক আমদানির মোট মূল্য সাড়ে ছ’হাজার কোটি টাকার বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার কারণে এবার থেকে ভারতে পোশাক, তেল, ফল বা সুতো রপ্তানি করতে হলে বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা জলপথ। এর ফলে খরচ পরিমাণে বাড়বে। এতে রপ্তানির পরিমাণ কমতে বাধ্য। ফলে বাংলাদেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আর এই পরিস্থিতিতে যদি ভারতের জলপথ বন্ধ করা হয় বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিকাঠামো একেবারে ভেঙে পরবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।











Discussion about this post