‘বাঁচতে হলে সংবিধানকে ধ্বংস করতেই হবে’! জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলি রিয়াজ, তার মন্তব্য নতুন জল্পনা সৃষ্টি করল বাংলাদেশের অন্দরে। বাংলাদেশ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হয়ে তিনি নিজেই নিজেকে অপরাধের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করলেন আলি রিয়াজ।
আলি রিয়াজ এর এই বক্তব্যে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, তিনি নিজেই নিজেকে অপরাধের কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন। নিজেই জানালেন এতদিন সংবিধান লঙ্ঘন করেই তিনি আজ এই জায়গায় এসেছেন। দেশের সংবিধানের লংঘনের সত্যি কি তা আজ সকলের কাছে স্পষ্ট। ফলে এই সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি রীতিমত ঘুম উড়িয়েছে সংবিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের। গত বছর 5 আগস্টে সরকার পতনের সময় এবং এরপর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় ঐক্যমত্য কমিশন গঠন করা হয় এই সরকারের তরফে। সেই সময় সরকারের উপদেষ্টারা ভেবেছিল সুষ্ঠুভাবেই তাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে সংবিধানকে ধ্বংস করতে গেলে নানা রকম জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই অন্তর্ভুক্তির সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীকে। আর এই জটিলতার সম্মুখীন হয়ে সরকার ঘনিষ্ঠ এবং সংবিধান ধ্বংস করার মূল ব্যক্তিত্ব আলী রিয়াজের কন্ঠে উঠে এলো এই জটিলতার সুর।
সংবিধান লঙ্ঘন করলে কি শাস্তি হতে পারে সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সকলে জেনে গিয়েছে, আর সংবিধানের ধারা অনুযায়ী সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয়টি আবার উল্লেখ করলেন আলি রিয়াজ। অর্থাৎ সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদির অপরাধ গুলি হল, সংবিধানের ৭ক অনুসারে, কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায়, এই সংবিধান কোন অনুচ্ছেদ রদ, বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা সেটি করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে কিংবা
এই সংবিধান কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে তার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
পাশাপাশি কোন কার্য করতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে, কিংবা
কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে তার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
অর্থাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সেই সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলী, ঐক্যমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং সরকার ঘনিষ্ঠ ছাত্র সমন্বয়করা প্রত্যেকেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী। যার জন্যই দেশের সংবিধান ধ্বংস হতে চলেছে। বিশেষ করে ৭ক সংবিধানকে মুছে ফেলতে হবে তাদের অপরাধ ঢাকতে।











Discussion about this post