বাংলাদেশে জঙ্গিদের অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম আলোচনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আইএসএ র সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে মালয়েশিয়া পুলিশের তরফে। যার মধ্যে ৩৫ জনই বাংলাদেশি। ইতিমধ্যেই ৩ জনকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তরফে ইন্টারপোলের সাহায্যে এই বাংলাদেশী জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্পূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের জঙ্গিদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উৎখাতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং সবশেষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দাবি, বাংলাদেশে জঙ্গি নেই। অর্থাৎ যেখানে ৩৫ জন বাংলাদেশী জঙ্গিতে মালয়েশিয়া পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেখানে বাংলাদেশের সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা সে দেশে জঙ্গি নেই বলে দাবি জানাচ্ছে। গত বছর 5 আগস্টে পালাবদলের পর, বাংলাদেশের জেল থেকে পলাতক 79 জন জঙ্গি। আর তারা এখন ধরাছোঁয়ারও বাইরে। এদের কোন তথ্য আপাতত নেই সরকারের কাছে। অকেজো করে রাখা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অফ ট্রান্সলেশনাল ক্রাইম ইউনিট বা সিটিটিসি কে। কিন্তু মালয়েশিয়া তরফে দাবি জানানো হচ্ছে ধরা পড়া বাংলাদেশেরা, আইএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সিরিয়াতে জঙ্গি তৎপরতার জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থ পাঠাতো। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতাকে কি অস্বীকার করার চেষ্টা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার?
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া,জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৫ প্রবাসীর বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ঢাকার বিমানবন্দর থানায়। এ মামলার বাদী এন্টি টেররিজম ইউনিটের ইনটেলিজেন্স শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল বাতেন। বিমানবন্দর থানার প্রসিকিউশন কর্মকর্তা এসআই এসএম বখতিয়ার খালেদ জানান, মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন,নজরুল ইসলাম সোহাগ, মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং জাহেদ আহমেদ। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাদের হেফাজতে নেয় এটিইউ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তারা মলয়েশিয়ায় অবস্থান করা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা মালয়েশিয়ার আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি কতিপয় নাগরিকদের পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধামে সদস্য সংগ্রহ এবং প্রচার-প্ররোচণা চালিয়ে আসছিল। এছাড়াওআসামিরা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সেদেশের জননিরাপত্তা, জনসাধারণের আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে কর্যক্রম পরিচালনা করে। পরে গত ২৮ এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আসামিরা সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হয়ে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদানের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেন।











Discussion about this post