কিছুতেই আটকানো গেলনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাহবুদ্দিন চুপ্পুর বঙ্গভবন থেকে বেরোনো।প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় পর বঙ্গ ভবন থেকে বাইরে এসে ১বছরেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় কোনও অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি। মহম্মদ ইউনুসের শাসনমলে মাত্র চারটি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বঙ্গ ভবন থেকে বেরোতে পেরেছিলেন শাহবুদ্দিন চুপ্পু। গত বছর সরকার পতনের পর থেকে এই চারটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ছাড়া পুরো সময়কার টাই বঙ্গভবনের চার দেওয়ালের মাঝে কেটে গিয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির।
সোমবার পিজিআরের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বা পিজিআর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের সর্বদা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। ঐদিনই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর।
এই বিজ্ঞপ্তিতে, ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন সোমবার পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং পিজিআর কমান্ডার। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া সেনাবাহিনীর সিজিএস, পিএসও এএফডি, সেনাবাহিনীর কিউএমজি, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন রাষ্ট্রপতি পিজিআরের কোয়ার্টার গার্ড পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি তিনি এই রেজিমেন্টের অফিসার ও জেসিওদের সঙ্গে বাক্যালাপ করেন। এরপর তিনি শহীদ ক্যাপ্টেন হাফিজ হলে পিজিআরে কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের উদ্দেশে দরবারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই রাষ্ট্রপতি পিজিআরের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সবাইকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫ জন শহীদসহ সব প্রয়াত সৈনিকদের স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া তিনি পিজিআর সদস্যদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ ও পেশাগত দক্ষতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সর্বদা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দেন। পেশাগত মান ও দক্ষতাকে আরও বিকশিত ও বিশ্বমানে পৌঁছাতে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে প্রয়োজনে আরও জোরদার করার পরামর্শও দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর অংশ হিসাবে সমসাময়িক বাস্তবতার পাশাপাশি অতীত ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহ থেকেও পিজিআরকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় পর সেনা ক্যান্টনমেন্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে, মো. সাহাবুদ্দিন প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বা পিজিআর সদস্যদেরকে কর্তব্যপরায়ণতা, নিষ্ঠায় অটল এবং ‘চেইন অব কমান্ডে’র প্রতি আস্থাশীল থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করলেন।











Discussion about this post