বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দশতলা এই ভবন থেকেই গোটা দেশে তাঁদের কর্মকাণ্ড চালাতো বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে রাজধানীর গুলিস্তানে থাকা আওয়ামী লীগের সেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়। যদিও তা আর আগের মতো ঝাঁ চকলকে অবস্থায় নেই। গণঅভ্যুত্থানের পরই আওয়ামী লীগের সেই কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ছাত্র-জনতা। জানা যায়, এখন সেই ভবনের কিছু অংশ স্থানীয় হকাররা গণ শৌচালয় হিসেবেই ব্যবহার করতেন। এবার জানা যাচ্ছে, সেই ভবন কার্যত দখল করেছে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু মানুষ। একটি ভুঁইফোঁর সংস্থার দুটি ব্যানার সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন সাফাইকর্মী ওই ভবনের আবর্জনা, রাবিশ পরিস্কারের কাজ করছেন। এই খবর জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। অনেকেরই প্রশ্ন, কে বা কারা আওয়ামী লীগের পরিত্যাক্ত কার্যালয় দখল নিল?
‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে দুটি বড় ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে। লাল রঙের সেই ব্যানারদুটি বেশ নজর কাড়ছে স্থানীয় মানুষের। ফলে কৌতুহলও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দেখা যায়, ওই ভবনের তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। আবার একতলা ও দোতলায় জমে থাকা আবর্জনা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, রাতারাতি দশ তলা ভবনের তিনটি তলা পরিস্কার করা হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভবনটি পরিষ্কারের কাজ করছেন। তারা বলেছেন, পুরো দশ তলা ভবনটি পরিষ্কার করার ডন্য তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু যারা এই কাজে যুক্ত তাঁদের দাবি, স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় স্থানীয় কিছু মানুষ নিজেদের অর্থ দিয়েই এই ভবনটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।
কিন্তু কারা এই কাজটি করছে, সেটা জানে না প্রশাসনও। অথচ স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, সিটি কর্পোরেশন তাঁদের সাহায্য করছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আগের মতো এবারও বেনামে এনসিপি আওয়ামী লীগের সদর কার্যালয় দখল করতে চাইছে। যদিও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন এ ব্যাপারে কিছুই নাকি জানে না। তবে কারা দখল করল, কি হবে এখানে? আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের বাইরে জ্বলজ্বল করছে টকটকে লাল রঙের দুটি ব্যানার। তাতে লেখা ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’। স্থানীয় একজনের অদ্ভুত যুক্তি, গত বছর জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল, সেটা আগামী প্রজন্মকে জানাতে এই ভবনে গবেষণা হবে। যাতে আগামীদিনে বাংলাদেশে কেউ ফ্যাসিবাদী চিন্তাভাবনা করতে ভয় পান।
যদিও আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কেউ নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতাই এই ভবনে কোন তলায় কি হবে সেটা ঠিক করে নেবেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, পুরো ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই ভবনে গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের অফিস, শহীদ পরিবারের অফিস করা হবে। কারও আবার দাবি, এই জমি ক্ষমতার জোরে জবরদখল করে এই ভবনটি নির্মান করিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। উল্লেথ্য, ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় ১০ তলাবিশিষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই ভবন ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থাতেই ছিল। অর্থাৎ এটা এখন নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি হওয়া উচিৎ। কিন্তু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা একটি ব্যানার লাগিয়ে দশতলা বিল্ডিং দখল করছে। মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন চোখে আঙুল দিয়ে বসে আছে। কারণ, এর নেপথ্যে যে ছাত্র-জনতা, থুড়ি – এনসিপি।












Discussion about this post