গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের। একই দাবি বাংলাদেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনের। আওয়ামী লীগ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কার্যত নিষিদ্ধ। সে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলের যাবতীয় রাজনৈতিক কাজকর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে, বাংলাদেশের মাটিতে প্রকাশ্যে কোনও কর্মসূচি নিতে পারছে না আওয়ামী লীগের সভ্য সমর্থকরা। আবার গত বছর ৫ আগষ্টের আগে-পরে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউ কেউ ধরা পরে এখন জেলবন্দি। ফলে বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল সংগঠিত করার কার্যত কেউ নেই। তবে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকরা যেভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল তা সাহস ঢুকিয়েছে দেশের অন্য প্রান্তের নেতা নেত্রীদের। আবার ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদেরও সাহস যুগিয়েছেন গোপালগঞ্জের মানুষ। ফলে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলিতে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।
গোপালগঞ্জেই শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার জন্মস্থান রয়েছে, আবার এখানেই রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সমাধি। আওয়ামী লীগের দাবি গোপালগঞ্জে নিরীহ আওয়ামী সমর্থকদের মৃত্যু হওয়ার পরও ওই একটি জেলা শহর থেকেই আট হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও চলছে তল্লাশির নামে অত্যাচার। এই নিয়ে আওয়ামী নেতারা একটি তথ্যচিত্র বানিয়েছে। যা রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন, ইউরোপিও কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেক কাছে জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে তাঁরা দিল্লিতে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল তাঁরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। জানা যাচ্ছে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভারত সরকারের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছিল আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি নিয়ে। এরপরই তা স্থগিত রাখে উদ্যোক্তারা। জানা যাচ্ছে, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বাঁধা আসুক সেটা চায়নি নয়া দিল্লি। কিন্তু সেই সেমিনার বাতিল হলেও আওয়ামী লীগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে নয়া দিল্লি।
জানা যাচ্ছে, শনিবার দিল্লিতে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। প্রসঙ্গত বিগত এক বছরে এই প্রথমবার শেখ হাসিনা দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতানেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বলেই খবর।
কারা কারা থাকতে পারেন এই বৈঠকে?
ভারত সরকার বিগত এক বছরে শেখ হাসিনার অবস্থান সব সময় গোপন রেখেছে। এবার জানা যাচ্ছে, বাছাই করা কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিগত এক মাসে। তাঁর ছেলে ও মেয়ে যেমন দেখা করছিলেন, তেমন আরও কয়েকজন আত্মীয় এবারে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন। এবার তাঁকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। জানা যাচ্ছে, শনিবার দিল্লিতে কোনও এক জায়গায় বসছে সেই বৈঠক। সেখানে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের কয়েকজন শীর্ষ পদাধিকারী। দিল্লির কর্তারা সবুজ সংকেত দিয়েছে।
আওয়ামী লিগ সূত্রের খবর, দলের পক্ষে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দলনেত্রী তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কারণ তিনিও হাসিনার সঙ্গে একই মামলায় অভিযুক্ত। তাই তাঁকে অনুমতি দিয়েছিল নয়া দিল্লি। সূত্রের খবর, শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাদে আরও দুজন শীর্ষ নেতা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁরা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধিরী মায়া এবং এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এনারা সকলেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। আবার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে আট-নয় জন ভারতে অবস্থান করছেন। এরাও বৈঠকে থাকতে পারেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ২৭ জন সদস্যের মধ্যে কয়েকজন দিল্লিতে ডাক পেয়েছেন। সবমিলিয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটা সবচেয়ে বড় আকারের বৈঠক হচ্ছে আওয়ামী লীগের। কারণ এর আগে যা হয়েছে সবই ভার্চুয়াল বৈঠক, সশরীরে এই প্রথম প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা।
সূত্রের খবর, এই এক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিফোনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটা সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করে ফেলেছেন। যাদের কিছু কিছু করে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এবার যারা ভারতে বা বিদেশে অবস্থান করছেন তাঁদের একত্রিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতা নেত্রীদের বৈঠকে বসার অনুমতি দিয়ে ভারতও এবার বার্তা পাঠালো বাংলাদেশকে। যে আসন্ন নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে। এখন দেখার, এই বৈঠকের পর প্রকাশ্যে এসে কোনও বার্তা দেন কিনা মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা। সেই সম্ভাবনাও প্রবল। ফলে ইতিমধ্যেই পা কাঁপতে শুরু করেছে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসর জামাত-এনসিপির।












Discussion about this post