গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ত্যাগ। ৭২ ঘন্টার মধ্যেই সুদূর ফ্রান্স থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের উড়ে আসা আর ৮ আগস্ট বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে শপথ নেওয়া। খুব দ্রুততার সঙ্গে এত কিছু ঘটে যায়। একটি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এত দ্রুত একটা সমাধান অনেকেরই চোখ কপালে তুলেছিল সে বার। কিন্তু মাস খানেকের মধ্যেই ৮৪ বছরের বৃদ্ধ নোবেলজয়ী আমেরিকায় গিয়ে ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে বলে ফেললেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ছিল একটা মেটিকুলাস ডিজাইন, বা সুচারু ষড়যন্ত্র। আর তাঁকে ক্ষমতায় এনে বসিয়েছিলেন ছাত্র নেতারা। এর পরবর্তী সময়ে নানাভাবে প্রমাণিত হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা মন্ডলীর মাথায় রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা, তাঁদের মাথায় জামাযতে ইসলামী, জামাতের মাথায় পাকিস্তানের আইএসআই ও পাকিস্তানের মাথায় মার্কিন ডিপ স্টেট। অর্থাৎ খুবই সুচারু ষড়যন্ত্র হয়েছিল শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে। এই ঘটনার এক বছর হতে চলল। মুহাম্মদ ইউনূস কি করলেন বাংলাদেশের জন্য? তিনি কি আদৌ খুব আনন্দে আছেন এক বছর ক্ষমতা ভোগ করার পর?
উত্তরটা হল – না! প্রায় একমাসের কাছাকাছি সময় হতে চলল মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বের হননি। এমনকি ঢাকার উত্তরায় একটি স্কুলে যখন একটি যুদ্ধ বিমান ভেঙে পড়ল, তাতে অন্তত ৩০ শিশু পড়ুয়ার মৃত্যু হল, তখনও ইউনূস সাহেব যমুনা থেকে বের হননি। এটা চরম আশ্চর্যের বিষয়। কেন তিনি যমুনায় বসে আছেন? তিনি কি গৃহবন্দি? সেটা যদি হয়, তাহলে কে বা কারা তাঁকে আটকে দিল?
আসলে মুহাম্মদ ইউনূস একজন উদারচেতা মানুষ। কিন্তু তাঁর উচ্চাকাঙ্খা প্রবল। এই ধরণের মানুষ ক্ষমতা ও অর্থের লোভে অনেক কিছুই করতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তাঁর একটা ভাবমূর্তি আছে, পরিচিতি আছে। যে কাজটা বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী সরাসরি করতে গেলে প্রবল সমালোচিত হতো, সেই কাজটাই মুহাম্মদ ইউনূস করলে বিশ্বের নজর সহজে পড়বে না। এই জন্যই ইউনূস সাহেবকে বসানো হয়েছিল বাংলাদেশের মসনদে। বিগত এক বছরে বাংলাদেশে যে ভাবে শত শত জঙ্গিকে জেল থেকে ছেড়েছে বা যেভাবে মবের রাজত্ব সৃষ্টি করে একের পর এক পুলিশকর্মী, আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের খুন করা হয়েছে। অথবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। যদি জামাতের আমীর বা জামাতপন্থী কেউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হতেন তাহলেই গোটা দুনিয়ায় গেল গেল রব উঠে যেত। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে সেই কাজগুলো সহজেই হল, কিন্তু তাঁকে নিয়ে অভিযোগ তুলল না বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। এই কারণেই মুহাম্মদ ইউনূসকে বসানো হয়েছিল বাংলাদেশের ক্ষমতায়। আর আড়াল থেকে সবটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে জামাত আমীর।
বাংলাদেশের রাজনীতি মহলের একাংশের অনুমান, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মুহূর্তে কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। একদিকে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির চাপ, অন্যদিকে জামাত-এনসিপির জুলাই সনদের চাপ। আবার পশ্চিমা দেশগুলিও বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন নিয়ে চাপ দিচ্ছে। বর্তমান মার্কিন প্রশাসনও ইউনূসের মাথার উপর থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশি পণ্যে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো তার প্রমান। এই আবহে নিজেদের দাবিদাওয়া, বিশেষ করে জুলাই সনদ বা জুলাই ঘোষণাপত্র জারি না হওয়া পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশে রেখে দেওয়া খুব জরুরি। যাতে তিনি কোনও ভাবে বিদেশ চলে যেতে না পারেন, সেই কারণেই মুহাম্মদ ইউনূসকে যমুনায় নজরবন্দি করে রেখেছে জামাত ও এনসিপি শিবির। এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এখন দেখার এর পর কি হয়।












Discussion about this post