কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কারণ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা একাধিক দুর্নীতি থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র বিভিন্ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়েই কি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? এনসিপি কি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো নিঃশেষ হতে চলেছে? এগুলির জন্য দায়ী কারা? কে বা করা ইন্ধন যুগিয়েছে? অনেকে বলছেন, সরকারের অভিভাবক হিসাবে সেই দায় বর্তায় প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের উপর।
সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গোটা দেশে। এর দায় কি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের নয়? কিছুদিন আগেই একটি খবর এসেছিল, গুলশানে আওয়ামী লীগের এক নেতৃত্বের বাড়িতে এক কোটি টাকার চাঁদার দাবি উঠেছিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের এক নেতার বিরুদ্ধে। ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে খবর। আরো ৫০ লক্ষ টাকা নেওয়ার জন্য তারা গিয়েছিল। সেটা সামনে আসবেই তুমুল সমালোচনা জন্ম দেয়। এবং এটা স্পষ্ট হয়, কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রনেতারা। এমনকি বিভিন্ন চাঁদাবাজের ক্ষেত্রে এনসিপির বিভিন্ন নেতারা জড়িত। তারা দেখেও না দেখার ভান করেছেন। ফলে সেটা চরম চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তারা একটি টর্চার সেল তৈরি করেছিল। যেখানে নাকি চাঁদা না দিলে নির্যাতন চালানো হত বলে খবর। এখানেই প্রশ্ন উঠে, অদ্ভুত্থানের নায়করা, যারা গোটা দেশকে একটি সোনার বাংলা এনে দেবে বলেছিল, তারা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে কিভাবে? তাদের মাথার উপর হাত কার রয়েছে? এর জন্য দায়ী কে?
বাংলাদেশের অনেকগুলি রাজনৈতিক দল আছে। তাদের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। তাদের চাঁদাবাজি করতে দেখা যায় না। কারণ তারা জানে, তারা গেলেই মানুষ চাঁদা দেবে না। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মানুষের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা বিশাল ক্ষমতাশালী এবং তারা যা খুশি করতে পারে। তাই মানুষও ভয় পেয়ে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
এর আগে দেখা গিয়েছিল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতাদের সঙ্গে মিলে এনসিপির নেতারা বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি দেশে বিভিন্ন জায়গায় মব চালানো হয়েছে। যারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন, তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি উপদেষ্টা মন্ডলীতে দুজন উপদেষ্টা রয়েছেন ছাত্র আন্দোলনের। আর তাদের কর্মকান্ডকে সাফাই দিয়ে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। যখন সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছে এবং তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ছাত্র নেতাদের রক্ষা করছে সেনাবাহিনী থেকে পুলিশ। তারা দেশ সুরক্ষার থেকে ছাত্র নেতাদের দেহ রক্ষার কাজ বেশি মন দিয়ে করছে বলে বলছেন বাংলাদেশের মানুষরা। এই জায়গা থেকেই রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ছাত্রনেতারা বুঝে গিয়েছে, তাদের যেকোনো দাবি আদায় করতে সময় লাগে না। ঘরে বেপরোয়া হয়ে তো উঠবেই। ফলে একমাত্র দায়ী ব্যক্তি, মহম্মদ ইউনূস। কারণ তিনি রাশ টানলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। যদি সত্যিই পরিস্থিতি বদলাতে চায় তারা, তবে নিজেদের মোহ ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের হয়ে মহ করতে হবে। বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post