পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার লাগামহীন। এ দাবি বিগত এক বছর ধরে বরাবরই করে আসছে ভারত সরকার। এমনকি গত মার্চ মাসে ভারতের সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ বিষয়ে বয়ান দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের হিন্দু সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর ২৪০০রও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৭২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের কাছে এটা এখনও উদ্বেগের বিষয়। মার্চ থেকে জুলাই পরিস্থিতি যে এতটুকু পাল্টায়নি, তার প্রমান বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নির্যাতনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশ। যা অবশ্যই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে মাথাব্যাথার কারণ। তিনি ভারতের দাবি উড়িয়ে দিতে পারেন বটে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ওড়াতে পারবেন না। আর মুহাম্মদ ইউনূসের রক্তচাপ আরও বাড়াতে পারে সম্প্রতি রংপুরের হিন্দু নির্যাতন। যা বড় আঁকার নিতে চলেছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জানা যাচ্ছে, রংপুরের বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে বহু হিন্দু পরিবার ঘরছাড়া। তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালাছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে হিন্দুদের উপর আক্রমণের ঘটনা আংশিকভাবে মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং মঙ্গলবার সকালে গত রবিবার রংপুরে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনাটি সত্য হলেও, সংবাদমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে তাতে অনেকটা রঙ চড়ানো। বাংলাদেশ প্রশাসনের দাবি, যতটা দেখানো হচ্ছে ততটা কিছু হয়নি। প্রশাসনের দাবি, ২২টি পরিবারের মধ্যে ১৯টি পরিবার বর্তমানে তাদের বাড়িতেই আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বাড়িঘর মেরামত করার কাজ শুরু করা হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রংপুরের হিন্দুরা এখনও আতঙ্কিত।
অর্থাৎ বাংলাদেশ আছে সেই বাংলাদেশেই। মুহাম্মদ ইউনূস বারবার অস্বীকার করছেন যে বাংলাদেশের হিন্দুরা নিরাপদে আছেন। তাঁদের নাকি কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্তু ভারতের পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক মহল থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এর আগে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে হিন্দু -সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এবার সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল একই অভিযোগ। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশনের পেশ করা এক রিপোর্টে একথাই জানানো হয়েছে। মে মাসে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের প্রতিনিধিরা। সেদেশের সরকারি আধিকারিক ও সমাজের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন তাঁরা। মজার বিষয়, রিপোর্টটি লিখেছেন কমিশনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক সীমা হাসান। যিনি একজন মুসলিম মহিলা। রিপোর্টে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনে সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করা না হলে তাদের প্রতি বঞ্চনা আরও দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। অর্থাৎ, এতদিন ধরে ভারত যে দাবি জানিয়ে আসছিল, তাকেই মান্যতা দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই রিপোর্ট। সবমিলিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও মুখ পুড়ল মুহাম্মদ ইউনূসের।












Discussion about this post