বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। তবে সে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তি হবে। এর মধ্যেই নির্বাচনের নির্ঘন্ট বা সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে দিতে পারে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাই নির্বাচন ঠিক কবে হতে পারে, কিভাবে হবে এই নিয়ে জোর জল্পনা চলছে বাংলাদেশজুড়ে। এমনকি এই সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন হবে, নাকি অন্য কোনও তত্ত্বাবধয়ক সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে, সেটা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। এর মধ্যেই বড় চমক দিলেন এক বিএনপি নেতা। তিনি জানিয়ে দিলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নেত্রী এবার নির্বাচনে লড়বেন। এমনকি তিনি ফেনী আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাও জানিয়ে দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে চঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচিনের দাবি উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। এই নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ দিচ্ছে বিএনপি। প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি দাবি করছিল চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্বাচন হোক। যদিও মাস দুয়েক আগে লন্ডনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। সেই বৈঠকের পর আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন করানোর ঘোষণা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এখনও মোটামুটি সেটাই ঠিক হয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও সরকারি স্তরে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়াকিবহাল মহল দাবি করে আসছিলেন, না আচালে বিস্বাস নেই।
তবে আচমকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার খালেদা জিয়ার প্রবেশ ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির চেয়ারপার্সন দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন, তখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় পর্দার আড়ালে চলে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলবন্দি ছিলেন। তবে করোনাকালে হাসিনা সরকার তাঁকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিল জেল থেকে। এরপর ২০২০ সালে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর সাজা মকুব করে দেওয়া হয়। গত বছর হাসিনা সরকার পতনের পরই প্রেসিডেন্ট মহম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলা থেকে মুক্তি দেয়। ফলে তাঁর নির্বাচনে লড়তে কোনও আইনি সমস্যা আর নেই। এই অবহেই বিএনপি নেতার দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মিন্টো খালেদা জিয়ার নির্বাচনে লড়ার কথা যেমন জানিয়েছেন, তেমনই নির্বাচন নিয়ে ইউনূস সরকারকে খোঁচাও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান যা পরিস্থিতি দেশে, তাতে ফেব্রুয়ারির আগেও নির্বাচন হতে পারে, কারণ সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। যদি অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হয়, তবে ৯০ দিনের মধ্য়ে নির্বাচন করাতে হয়।
এখন দেখার, বাংলাদেশে কবে নির্বাচন ঘোষণা করেন ইউনূস সাহেব। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা কম নয়। তবে ইদানিং তাঁর অসুস্থতা চর্চায় রয়েছে। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতেই কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন দীর্ঘকাল। সম্প্রতি তাঁর মুক্তির নির্দেশের পর তাঁকে লন্ডন নিয়ে যান ছেলে তারেক রহমান। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা হয়। জানা যায় তাঁর লিভার ক্রিরোসিস, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং আর্থারাইটিস রয়েছে। ফলে সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি কতটা অংশ নিতে পারবেন সেই সন্দেহ থেকেই যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ফের বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারেন এই আশঙ্কা করছে বিএনপিও। ফলে নির্বাচনে তাঁকে ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় জামায়াতে ইসলামির প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকায় অসন্তুষ্ট বিএনপি। তাই খালেদা জিয়ার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার ঘোষণা।












Discussion about this post