বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিক সম্মেলনে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সফিকুল আলম। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেমন মন্তব্য করেন, তেমনি একটি বিস্ফোরক দাবি করে বসেন। প্রেস সচিব সফিকুল আলম বলেন, ‘আগামী পাঁচ-ছয় দিন সরকারের জন্য খুবই ক্রুশিয়াল টাইম। পাঁচ-সাত দিনে বোঝা যাবে, আমরা কোথায় যাচ্ছি।
তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঠিক কি বলতে চেয়েছেন? কেনই বা আগামী ৫-৬ দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বেশ সচিব, যিনি নিজেই একজন উপদেষ্টার সমান ক্ষমতাবান। যিনি কোনও কসুর রাখেন না প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে দিতে। মিথ্যে কে সত্যি প্রমাণিত করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু তাঁর মুখেও এখন আতঙ্কের কথা, আগামী ৫-৬ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন এ দাবি করলেন শফিকুল আলম?
যদিও তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অপরাধকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে’। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, যদি বাংলাদেশে অপরাধ কমেই যায়, তাহলে কেন তিনি বলছেন আগামী ৫-৬ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ?
একটি খবর নিয়ে এই মুহূর্তে খুব চর্চা চলছে বাংলাদেশে। সেটা হল, আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদমর্যাদার আধিকারিককে নাকি বরখাস্ত করা হয়েছে। এমনকি মেজর সাদিক নামে ওই আধিকারিককে আটকও করেছে বাংলাদেশ সেনা। যদিও সে দেশের সেনাবাহিনী এই খবর অস্বীকার করেছে। আর যেটা খুব স্বাভাবিক বটে। আসল ঘটনা কি, সেটা জানা খুব কঠিন।
যদিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক অধিকারিক দাবি করেছেন, মেজর সাদিকের পূর্বপুরুষ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি এটাও জানাচ্ছেন, জামায়াতে ইসলাম ী ও এনসিপি-র আইটি সেল এই ধরনের ভুয়া খবর রটিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বদনাম করার অপচেষ্টা করছে। এমনকি দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান আগে পিছে না ভেবেই মেজর সাদিকের মত কর্মঠ অফিসার কে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এই সবকিছুর সত্যতা সেনাবাহিনীর তরফে এখনো স্বীকার করা হয়নি।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার গত বছর পাঁচ আগস্ট বলেছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার কাঁধে। কিন্তু তিনি কি তা পালন করছেন? এই প্রশ্ন বহুদিন আগে থেকেই ওটা শুরু হয়েছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা সমর্থকদের ওপর বিগত এক বছর ধরে যে পরিমাণ দমন পীড়ন বা অত্যাচার চলছে, সেটা নিয়েও কার্যত মুখ বুঝে রয়েছে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অথচ বাংলাদেশের কয়েক কোটি আওয়ামী লীগ সভ্য সমর্থকও সে দেশের নাগরিক। এবার আসছে মারাত্মক সেই প্রশ্ন। আদৌ কি আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকরা কোনও গেরিলা ট্রেনিং নিচ্ছেন? আসলে যে গুজব এখন বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা হল, দেশ এবং দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতাকর্মী রীতিমতো গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আর এই প্রশিক্ষণ হয়েছে দিল্লি, কলকাতা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা দফতররের দাবি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ নেওয়া আওয়ামী কর্মীদের প্রধান উদ্দেশ্য হল দেশের মধ্যে বড় ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। পাশাপাশি হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ঢাকার দখল নেওয়া। দাবি, সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া এক চক্রের কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে নাকি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজরের গ্রেফতারের ঘটনা ভুল, এমনটাই দাবি। তাহলে সত্যিটা ঠিক কী? ওয়াকিবহাল মহল দাবি করছে, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রবল আতঙ্কেই এই ধরণের ভ্রান্ত প্রচারণা চালাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেনাপ্রধান ও এনসিপি-জামাত জোট। কিন্তু শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই ফিরবেন, আর তা মারাত্মক উপায়ে।












Discussion about this post