“একমাত্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই দায়িত্ব হস্তান্তর হবে। ক্ষমতায় যেই আসুক। অন্য কোনও উপায়ে ক্ষমতা দখলের ফন্দি-ফিকির ৫ ই আগস্টের মতোই প্রতিরোধের মুখে পরবে”। এই দাবি বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার। তিনি ফেসবুকে এমনই একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যার অর্থ হল, বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের বা তাঁদের সরকার ক্ষমতায় না এলে তাঁরা ফের আন্দোলনে নামবেন, বা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে গত বছরের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন। এটা ধরেই নেওয়া যায়, বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা বর্তমানের জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতার বক্তব্য, বর্তমান বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনও উপদেষ্টার নয়। এটা এভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়, তাঁরা যেভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছিলেন, অন্য কেউ যেন এসে তাঁদের ক্ষমতা দখল না করেন। তাঁরাই একমাত্র বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকবেন। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, তাঁদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে, আর এটা বুঝতে পেরেই আসিফ মাহমুদরা এই ধরণের মন্তব্য করছেন।
কিন্তু বিদায়ের ঘণ্টা বাজলো কিভাবে, কারাই বা এই বিদায় ঘণ্টা বাজাচ্ছে? বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগ? সেন্টার ফর ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য যেমন কয়েকদিন আগেই এক সেমিনারে দাবি করে বসেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যাওয়ার সময় এসেছে। তাদের এখন ‘এক্সিট পলিসি’ নিয়ে চিন্তা করা উচিত। এ সরকার কী পদ্ধতিতে যাবে, সেটা এখন পরিষ্কার করা জরুরি।
বাইট – দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরকারেরই অঙ্গ। তিনি মহাম্মদ ইউনূসের সরকারে কাজ করছেন। তিনি যখন এ কথা বলছেন তখন বুঝতে হবে বিষয়টা গুরুতর। কয়েকদিন আগেই তিনি প্রথম আলোর ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষিতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এবার অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজিট প্ল্যানের সময় এসে গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কয়েকদিন আগেই যখন তিনি সরকারের প্রশংসা করলেন, আজ কেন তিনি বিমুখ?
আসলে দেশি-বিদেশী বিশ্লেষকদের মতবাদ অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এই সরকার একেবারেই শেষ সময়ে চলে এসেছে। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারও জানাচ্ছে, খুব শীঘ্রই নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে। কারণ, এই সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে কমতে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর পিছনে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম ভূমিকা। এই ছাত্রনেতারা যেমন হাসিনা সরকারের বিদায় নিশ্চিত করেছিল, আজ তাঁরাই ব্যাপক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করে এই সরকারের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ও বৈদশিক ব্যর্থতা, এমনকি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও এই সরকার পূরণ করতে পারেনি। মুহাম্মদ ইউনূসও আজ আর নিজের ক্যারিসমা দেখাতে পারছেন না। পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের ভূমিকাও আজ আতসকাঁচের নীচে। সবমিলিয়ে বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে এই সরকারের। তবে কবে, কখন এবং কীভাবে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায় হবে, সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post