অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে মতের পার্থক্য বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে রছে ওয়াকিবহাল মহল। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে একসময় এই ইউনূসের উপরই ভরসা রেখেছিলেন ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু এখন বাংলাদেশের নির্বাচন, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের দ্বন্দ। হাসিনা পরবর্তী সময়ে ইউনূসের সরকারে বিপুল ব্যর্থতা সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে অনেকেই বলছেন বাংলাদেশে সেনাশাসন প্রয়োজন। ২০২৫এর আগস্টে এসে অর্থাৎ হাসিনা বিদায়ের এক বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ নামকটি দেশটি সব থেকে অস্থির অবস্থার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন বা সংস্কার হল গাধার সামনে গাজর ঝুলিয়ে রাখার মত অবস্থা। যারা বৈষ্যমের বিরোধীতা করে ক্ষমতা দখল করেছিল, আজ তারাই সবে থেকে বেশী বৈষম্য করে চলেছে, সঙ্গে অশেষ দুর্নীতি। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরী হয়েছে জনগন এবং সেনার অবিশ্বাস। অনেকেই বলবেন এই সেনাবাহীনি তো সরকারের সঙ্গেই আছে।
গোপালগঞ্জে এই সেনাবাহীনি যে করেছে তা সবাই জানে। কিন্তু এক সময় অনেকগুলি কারণ তৈরী হয়, যার ফলে সেনাশাসন জরুরী হয়ে পড়ে। যেমন যখন সরকার চরম ব্যর্থ হয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় তখন সেনা নিজেদের কে উদ্ধারকারী হিসাবে তুলে ধরে, তখন সেনাশাসন জারি হয়। এখন বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি হয়েছে এই দখলদারী সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং অস্থিরতার ফলে। দ্বিতীয় বিষয় হল অর্থনৈতিক সঙ্কট, অর্থাৎ অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বেকারত্ব এবং চরম দারিদ্রতা। এগুলিও এখন বাংলাদেশে বিদ্যমান। আর তৃতীয় বিষয় হল যখন সেনার ভিতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় সরকারের দ্বারা এবং সরকার যখন সেনার বিরুদ্ধে যায়। চতুর্থত হল বহিঃশক্তির দ্বারা দেশ নিয়ন্ত্রন হলে অর্থাৎ যখন বহিশক্তি বেশী করে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পাঁচ নম্বর হল কোন উচ্চাকাঙ্খী সেনাকর্তা দেশের শাষক হতে চাইলে। তো এগুলি প্রায় সবই বাংলাদেশের জন্য প্রযোয্য।আর বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজানীতিতে সামরিক বাহীনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল এবং আছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান বলেছিলেন ডিসেম্বরে নির্বাচন এবং জানুয়ারীতে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, সেটি তো হয়নি, যদিও ইউনূস সরকার ফেব্রুয়ারীতে ভোটের কথা বলেছেন, তবে অনেকেই সন্দেহ করছে যে,কোন না কোন বাহানায় সেই ভোটও পিছিয়ে যাবে।
এখন ইউনূস তার সাথে পেয়েছে আমেরিকাকে।অর্থাৎ আমেরিকার যে স্বার্থ বাংলাদেশকে ঘিরে, সেই স্বার্থ রক্ষা করতে ইউনূস যদি সময় চান তাহলে আমেরিকা কোন বাঁধা দেবে বলে মনে হয় না। অপর দিকে চাপ বাড়াচ্ছে দেশবাসী।তারা চাইছে দেশে স্থিরতা যাতে বোজায় থাকে। মব কালচার যাতে পুরোপুরি বন্ধ হয়, চাঁদাবাজি যেন না থাকে। কিন্তু এই সরকার এগুলি বন্ধ না করে এগুলি কে আরো বেশী করে উৎসাহ দিচ্ছে।
বাংলাদেশের এই অস্থিরতার সূত্রপাত ২০২৪ সালের অগাস্টে। ছাত্রসমাজের আন্দোলন ক্রমেই গণ আন্দোলনের রূপ নেয়। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান । তখনই মহম্মদ ইউনূসকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে দায়িত্বে বসানো হয়। কিন্তু এখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই মত মিলছে না ইউনূসের।
ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কারাতে হবে। আর এই নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তদারকি সরকার নিতে পারে না বলে মনে করেন তিনি । ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ ঠিক করার অধিকার একমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। এছাড়াও মায়ানমারের রাখাইনে মানবিক করিডরের বিষয়েও নিজের মত স্পষ্ট করে দেন তিনি। বলেন, মানবিক করিডরের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে হওয়া দরকার। অর্থাৎ ইউনূসের তদারকি সরকার এই বিষয়ে সম্মতি দিতে পারেন না।
সেই সঙ্গে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলাদেশি সেনাবাহিনী মহম্মদ ইউনূসের চিন ও পাকিস্তানপন্থী নীতিতে অসন্তুষ্ট। এদিকে নির্বাচন তাড়াতাড়ি করার উপর চাপ দিচ্ছে বিএনপিও। অন্যান্য দলগুলিও ইউনূসের নীতিতে তুষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে নিজের ঘর থেকেও তেমন সমর্থন পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতেই চাপে পড়ে তিনি সরে যেতে চাইছেন বলে পর্যবেক্ষক বিশ্লেষকদের। তিনি না সরলে হয়তো সেনাই ক্ষমতা দখল করে তাকে সরিয়ে দিতে পারে।












Discussion about this post