গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল ভারত। এবং সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি মেনে না চললে পাকিস্তানের তীব্র জল সঙ্কট তৈরি হতে পারে। বাস্তবে সেই জল সঙ্কট দেখাও দিয়েছে। আসিম মুনির হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘ভারত বাঁধ তৈরি করুক। বাঁধ তৈরি হলেই, আমরা ১০ টা মিসাইল ছুঁড়ে ওই বাঁধ গুঁড়িয়ে দেব।’ ‘সিন্ধু নদী ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়…আর আমাদের দেশের ক্ষেপণাস্ত্রেরও অভাব নেই’ তাই সিন্ধু জলচুক্তির তীব্র সমালোচনা করে ভারতীয় বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে মুনিরের মন্তব্যকে “পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ পাকিস্তানের মূলধন” বলে সুর চড়িয়েছে ভারত।
পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডন’ অনুযায়ী, ফ্লোরিডার টাম্পায় পাকিস্তানি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সদস্যদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে মুনির বলেন, “আমরা ভারতের বাঁধ নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করব, আর যখন তারা তা করবে, আমরা তা ধ্বংস করব… সিন্ধু নদী ভারতীয়দের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। নদী থামানোর ভারতীয় পরিকল্পনা বাতিল করার জন্য আমাদের সম্পদের কোনও অভাব নেই।”
পহেলগাম কাণ্ড নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের পর দুই মাসে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিফ মুনির। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় শিল্পপতি আদনান আসাদের দেওয়া নৈশভোজে মুনির বলেছেন, ”আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। আমাদের যদি মনে হয়, আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি, তাহলে অর্ধেক পৃথিবীকে নিয়ে ধ্বংস হব।”
আর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত,
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ”অ্যামেরিকা সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের একটি বিবৃতি দেখেছি। পরমাণু শক্তি নিয়ে হইচই করাই হলো পাকিস্তানের চালিকাশক্তি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিজেদের সিদ্ধান্তে আসতে পারে। কিন্তু একটি দেশের পারমাণবিক কম্যান্ড ও কন্ট্রোল নিয়ে যে সংশয় ছিল, তা আরো জোরালো হচ্ছে এবং এই দেশের সেনা সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলে।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”আরো দুঃখজনক বিষয় হলো, বন্ধু তৃতীয় দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনির এই কথা বলেছেন। ভারত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোন পরমাণু ব্ল্যাকমেলিং এর কাছে নতিস্বীকার করবে না।ভারত তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।”
ভারতের এই বিবৃতির পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ”ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে অপরিণত মন্তব্য করেছে, তা পাকিস্তান কড়াভাবে খারিজ করে দিচ্ছে। ভারত অপ্রাসঙ্গিকভাবে বিবৃতি ও তথ্য বিকৃত করেছে। ভারত একটা পরমাণু ব্ল্যাকমেলের ন্যারেটিভ তৈরি করেছে, যা বিভ্রান্তিকর। ভারত ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক অভিযোগ করছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”পাকিস্তান দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং তাদের পরমাণু কম্যান্ড ও কন্ট্রোল অসামরিক সরকারের কাছে আছে। তারা এই বিষয়ে সবসময় শৃঙ্খলা ও সংযম দেখিয়েছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ”পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদবিরোধী যে পদক্ষেপ নিয়েছে, গোটা বিশ্ব তা স্বীকার করেছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনোরকম তথ্য ছাড়াই আমাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগ করছে।”
ভারত, ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনও পারমাণবিক ব্ল্যাকমেলের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে মুনিরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে পাকিস্তানি চিফ অফ আর্মি স্টাফের করা মন্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার পাকিস্তানের মূলধন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ধরনের মন্তব্যের মধ্যে থাকা দায়িত্বহীনতার উপর নিজস্ব সিদ্ধান্তে আসতে পারে, যা এমন একটি রাষ্ট্রে পারমাণবিক কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণের অখণ্ডতা সম্পর্কে সুপ্রতিষ্ঠিত সন্দেহগুলিকে আরও জোরদার করে, যেখানে সামরিক বাহিনী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
সোমবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মুনির সপ্তাহান্তে দু’টি মার্কিন শহর পরিদর্শন করেছেন এবং দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর দ্বিতীয় হাই-প্রোফাইল সফর শেষ করে পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ রবিবার বেলজিয়ামে উড়ে গেছেন।












Discussion about this post