সেনাপ্রধান ৫ই আগস্ট হাসিনার দেশ ত্যাগের পর যখন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তার বার্তা দেন। সেখানে দুটি এজেন্ডা স্পষ্ট ছিল। একটি হল মোটামুটি ১৮ মাসের মধ্যে ভোট। অন্যটি হল অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। তো একটি এজেন্ডা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। যে ফেব্রুয়ারী তে ভোট মানে আঠারো মাসের মধ্যে ভোট।যদিও ভোট না হওয়া পর্যন্ত ভোট নিয়ে আমাদের সন্দেহ থাকবেই। সেই সঙ্গে এটিও দেখার যে এই সরকার ভোট করাতে না চাইলে তখন কি সেনাবাহীনি ক্ষমতা দখল করে ভোট করাবে, নাকি পরিস্থিতি এমন দিকে এগিয়ে যাবে যে এমন একটি গোষ্ঠীর হাতে সব ক্ষমতা চলে গেল যে আর সেনার কিছু করার থাকবে না। যদিও সময়ই সে কথা বলবে। আবার ইউনূস বাহিনী হয়তো সেনাপ্রধানের অবসর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।সেনাপ্রধানের অবসরের পর তাদের পছন্দের সেনাপ্রধানকে দিয়ে যা খুশি তাই করাতে পারে। কে জানে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কোন দিকে যাচ্ছে। আর দ্বিতীয়টি কি আদৌ সম্ভব মানে অংশগ্রহণ মুলক ভোট কি দেখা যাবে। সেনাপ্রধানের অফিসার্স অ্যাড্রেসের বক্তব্য ঘিরে কয়েকটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে সেনাপ্রধানকে নিয়েই। তিনি তার সেনাসদস্যদের বলেন দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এজন্য বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে বেলা ১২টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।
এর বাইরেও সেনাপ্রধান বাহিনীর শৃঙ্খলা, সততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, সেনাবাহিনী ইস্যুতে নানা কটূক্তির জবাব এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় সেখানে পদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সব সেনা স্থাপনার কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে এত দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়নি। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে। এ সময় সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থা, করণীয় কাজ এবং দিকনির্দেশনা দিতে অফিসার্স অ্যাড্রেসে অফিসারদের সঙ্গে আরও কথা বলেন সেনাপ্রধান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এসব দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কেউ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে।
সেনা সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন সেনা সদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
সেনাবাহিনী নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তির বিষয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তাদের বয়স কম। তারা আমাদের সন্তানের বয়সি। তারা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। তখন নিজেরাই লজ্জিত হবে। এখানে একটি প্রশ্ন আসে যে সেনাপ্রধান এগুলি উদারতা থেকে বলছেন নাকি ভয় থেকে। সেনাপ্রধান আরও বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়ানো যাবে না।
নাম উল্লে¬খ না করে সেনাপ্রধান বলেন, একজন সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না।
সেনাপ্রধান অফিসার্স অ্যাড্রেসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তাই কেউ যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে সে বিষয়ে আগেভাগেই খেয়াল রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পর তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে সেটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।












Discussion about this post