প্রায় ১৫ বছরের বিরতি শেষে গত এপ্রিলে ঢাকায় বৈঠকে বসেছিলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দুই পররাষ্ট্রসচিব। ওই বৈঠকের ৯ দিন পর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকায় আসার কথা ছিল। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাতের জেরে সফরটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আগামী শনিবার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন ইসহাক দার।
এপ্রিলে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকটিকে দেখা হয়েছিল দেড় দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের প্রথম ধাপ হিসেবে। আর ইসহাক দারের সফরটি পুনরুজ্জীবনের ধাপটিকে এগিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে তা নিবিড় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও পাকিস্তানের গোপন ইচ্ছা হল বাংলাদেশকে আবার নিজেদের অংশ করা। পাকিস্তান যে আবারও বাংলাদেশকে নিজেদের অংশ করতে চাইছে, সেই রকম চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত দ্য ক্যাচলাইন নামের একটি পত্রিকায় সম্প্রতি এমনই একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঐ খবরে এক সাংবাদিক লিখেছেন ৫৪বছর পর পূর্ব পাকিস্তানকে ফিরে পাওয়ার সময় এসেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের কোন পত্র পত্রিকাতে বাংলাদেশকে আলাদা দেশ না বলে পাকিস্তানের অংশ বলা হচ্ছে, এবং ৫৪বছর আগে গৃহ যুদ্ধের কারণে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিল বলে দাবী করা হচ্ছে। পাকিস্তানে এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের এই ধরণের মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছে আওয়ামীলীগ। তাদের অভিযোগ বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের আমলে পাকিস্তান পন্থিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার ফলে সরকারি গ্রন্থাগারে ইচ্ছা কৃত অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঐ লাইব্রেরীতে আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনেক বই ছিল।পাকিস্তান থেকে বারবার বাংলাদেশ সফর আসছে নেতা থেকে শুরু করে গুরু্ত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা। তাদের একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিকে দখলে রাখা। অর্থাৎ সেনাবাহীনির সব ক্ষমতা যেন পাকিস্তান পন্থি কোন সেনার হাতে থাকে।সেই বিষয়গুলিকে নিশ্চিত করা।সম্প্রতি উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসবেন ২৩ আগস্ট। কিন্তু তার সফরের আগেই পাকিস্তান থেকে জোর চাপ দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশকে যাতে বাংলাদেশের সেনাবাহীনি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে পাকিস্তান পন্থী লোকজনদের নিয়োগ দেওয়া হোক। যাতে পাকিস্তান পন্থী রাজনীতির মানুষেরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পান।এবং বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। আর সেই জন্য তাদের বিশেষ লক্ষ্য হল সেনাপ্রধানের পদে পাকিস্তান পন্থি কাউকে বসানো। কোন কারণে সেনাপ্রধান পদে যদি পাকিস্তনা পন্থী কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নাও হয়, তহলে একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পদে চার তারকা জেনারেল বানিয়ে ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আযমীকেই, মানে গোলাম আজমের ছেলেকেই বসাতে চাইছে পাকিস্তান, কিন্তু কেন সেটাও পরিস্কার করা হয়েছে, দ্যা ক্যাচ লাইনের ঐ প্রতিবেদনে।বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে পাকিস্তান।যদিও পাকিস্তানের জঙ্গী ছাড়া বিদেশে রপ্তানি কারক কিছু উৎপন্ন হয় না। এই সফরে তৌহিদ হোসেন–ইসহাক দার বৈঠক শেষে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে। মূলত গ্রুপটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত সচিবদের নেতৃত্বাধীন কমিটি কাজ করবে। এই সফরের দ্বিতীয় দিনে ইসহাক দার একটি প্রাতরাশ বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ভিসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কাটতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের একটি কম খরচের (লো কস্ট) বেসরকারি উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থা ফ্লাই জিন্নাহকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর এয়ারসিয়াল নামের পাকিস্তানের আরেকটি বেসরকারি উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থা বাংলাদেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post