কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’, এমনই এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখোশ কার্যত খুলে দিয়েছে টিআইবি। টিআইবির সমীক্ষা বলছে, বাংলাদেশে শীঘ্রই রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ এতদিন ভারতীয় গণমাধ্যম যা বলে আসছে, এবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এল।
বাংলাদেশের প্রথমসারির গণমাধ্যম প্রথম আলো থেকে শুরু করে বিবিসি বাংলা টিআইবি-র এই বিস্ফোরক প্রতিবেদন নিয়ে খবর করেছে। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, বিচার, নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু সুশাসনের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় প্রশাসন-সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেশ কিছু ঘাটতি দেখা গিয়েছে। এতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশব্যাপী বহুমাত্রিক দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট, মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতারি, জামিন নিয়ে টানাটানি ও দলীয় আধিপত্যকেন্দ্রিক সহিংসতা চলছে। যা নতুন বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অভীষ্টের জন্য অশনি সংকেত। অর্থাৎ মোদ্দা কথা হল, শেখ হাসিনা গেছে এবার আমাদের পালা। যতটা সম্ভব লুটেপুটে খাই।
মুখেই সংস্কারের বাণী অথচ দলীয় আধিপত্য, দখলদারি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, “কর্তৃত্ববাদ পতনের পর থেকে গত এক বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা সবচেয়ে প্রভাবশালী বলে বিবেচিত, তাদের নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে সেই কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসিদ্ধিমূলক অভিসন্ধি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, টিআইবির এই প্রতিবেদনে কার্যত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃত্বকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা স্বৈরাচারি শাসক ছিলেন, তাঁর নামের সঙ্গে কার্যত ফ্যাসিস্ট শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর আমলে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, দলবাজি ছিল, কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে আজকের বাংলাদেশে সব কিছুর সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। হাসিনা আমলে মব সংস্কৃতি ছিল না, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ছিল না। কিন্তু জামাত ও এনসিপি নেতাদের দাদাগিরি এবং ইউনূস প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদতে বাংলাদেশে চলছে ভয়ানক মব সংস্কৃতি। বিচারের নামে প্রকাশ্য রাস্তাতেই চলছে গণধোলাই। যা ঠেকানোর কোনও সদিচ্ছাই দেখায়নি পুলিশ বা সেনাবাহিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা হল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার। টিআইবির গবেষণায় দাবি, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইতেন, তার থেকে বেশি মাত্রায় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ইউনূস এবং তাঁর দোসররা। এটাই নতুন বাংলাদেশের “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত”। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে বলে অভিমত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের। ফলে সার্বিক সংস্কারের বদলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।












Discussion about this post