কলকাতার মেট্রো মানেই প্রত্যেক দিনের ট্রাফিক এড়িয়ে আরামের যাত্রা। কয়েক দিন আগেও কলকাতায় একটি মাত্র মেট্রো লাইন ছিল, সেটা ব্লু লাইন। কিন্তু গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নতুন তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করেন। সেই পরিষেবা শুরু হতেই পুরোনো ব্লু লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। নতুন দুটি মেট্রো লাইনের জন্য ব্লু লাইনে মেট্রো সংখ্যা বাড়লেও অফিস টাইমে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে শুরু করেছেন নিত্যযাত্রীরা। কারণ আচমকা যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি। নিত্য যাত্রীদের অভিযাগ, প্রতিদিন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, প্লাটফর্ম খালি না হওয়ার কারণে ট্রেন ছাড়তেও দেরি হচ্ছে।
কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন সমসাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে শহীদ ক্ষুদিরাম থেকে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই খালি রেকগুলিকে কবি সুভাষ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ডাউন প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে হচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে দুটি মেট্রোর মধ্যে সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণেশ্বরের দিকে আপ লাইনে ঘোরানোর জন্য মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশনে বেশ কয়েকটি ডাউন ট্রেনকে সংক্ষিপ্তভাবে থামানো হচ্ছে। কলকাতা মেট্রোর দাবি, নিরাপত্তার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার জেরেই জট তৈরি হচ্ছে কলকাতা মেট্রোর পুরোনো লাইনে। আর এর জেরেই দক্ষিণেশ্বর থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম মেট্রো চূড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। মেট্রোর যাত্রা এই মুহূর্তে শহরের মানুষের কাছে আর বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভোগান্তির মধ্যেই আবার রাতের শেষ মেট্রো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
দুটি নতুন রুটকে দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ লাইনের সঙ্গে যুক্ত করার পর মেট্রো সময়ে ও পরিষেবার মধ্যে বিস্তার ফারাক দেখা দিচ্ছে। শহীদ ক্ষুদিরাম ও দমদম দুটি স্টেশন থেকে শেষ মেট্রোর সময় ছিল দশটা চল্লিশ মিনিট। কলকাতা মেট্রো রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে আপাতত ব্লু লাইনের বেশি রাতের মেট্রো আর চালানো হবে না। অবশ্য এটা প্রথম বার নয় এর আগেও একাধিকবার এই শেষ মেট্রো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
দিনের ব্যস্ত সময় অফিস টাইমে নিয়মিত এই ভোগান্তি ঠিক কবে শেষ হবে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত মেট্রো কর্তৃপক্ষ উত্তর দেয়নি। প্রত্যেকদিন অফিস টাইমে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
এর আগে নোয়াপাড়া বা বরাহনগর থেকে যে কোন মেট্রোতে উঠলে গন্তব্য পৌঁছানো যেত কিন্তু এখন বিমানবন্দর লাইন চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মেট্রোর জন্য আলাদা ঘোষণা। কে কোন মেট্রোতে উঠতে পারবেন সেই গন্তব্য জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিমানবন্দর রুটের যশোর রোড ও দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে এত যাত্রীর চাপ বেড়েছে যে দমদমে অনেক সময় মেট্রোর দরজা বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মিত এই দুর্ভোগে যাত্রীরা অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, এই বিষয়ে কলকাতা মেট্রোর তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় রেক ও পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মীর অভাবেই এই সমস্যার মুখে পড়েছে ভারতের সবচেয়ে পুরোনো মেট্রো লাইন।
আমেরিকা কি ভারতের বন্ধু? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের নিরিখে বিচার করলে অবশ্যই বলতে হবে তিনি এবং তাঁর...
Read more












Discussion about this post