২০২৩ সালের ৩০ মে দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। সিবিআইয়ের দাবি, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ক্ষমতাশালী বৃত্তের সঙ্গে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জুড়ে রয়েছেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে “হোম অ্যারেস্ট”দেখায় সিবিআই সেই মামলাতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
নিয়োগ দুর্নীতিতে বিভিন্ন এজেন্ট এবং রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেতুর মতো কাজ করতেন কালীঘাটের কাকু। এর পাশাপাশি, সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপ্স অ্যান্ড বাঊণ্ড এর সিইও হিসেবে কাজ করতেন সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র। সেই সূত্রে বিভিন্ন এজেন্টদের থেকে টাকা সংগ্রহ করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর জামিন মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানিয়েছেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে সওয়াল করে সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী এবং জানান প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির শীর্ষে পৌঁছাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এবং সমগ্র দুর্নীতিতে এই ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিছু নির্দোষ চাকরিপ্রার্থী এই ব্যক্তির জন্য চাকরি পাননি এবং এই ব্যক্তি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ।
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে। যেখানে টাকার অংকের পরিমাণের কথা উল্লেখ করে, এবং কোন নেতা- নেত্রীকে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র কত টাকা দিয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইডির মামলায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে শর্তসাপেক্ষে আগে জামিন পেয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র।
কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে আরো জানানো হয় যে, এই দুর্নীতির জাল বুনেছে একদল ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী, যার সঙ্গে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র গভীরভাবে যুক্ত তাদের দাবি এই জালেই তৈরি হয়েছে ভূয়ো চাকরি সুপারিশ পত্র ও নিয়োগপত্র। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা অনুমতি দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে ।
ইডির তথ্য অনুযায়ী, সুজয় কৃষ্ণ তিনটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির এই বিপুল কালো টাকা সাদা করেছিল। সেই সূত্র ধরে দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা জেলবন্দি করে। এর পাশাপাশি, একাধিক বার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন চাইলেও আদালত তা খারিজ করেছে, অবশেষে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল, কিন্তু এবার স্থায়ী জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।
সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের জামিনের আবেদনের মামলায় খুব শীঘ্রই শুনানি হবে বলে যানা যাচ্ছে । আদালত কোন সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এবং তদন্তকারী সংস্থা। কারণ কালীঘাটের কাকুর ভূমিকা নিয়ে ইডি যে দাবিগুলি করছে তা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার ভবিষ্যৎ তদন্তকে অনেকটাই প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়িতেই থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি তবে সব সময় বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নজরদারিতে রয়েছে তিনি। পাশাপাশি সিবিআই এর নজর এড়িয়ে যাতে তিনি কোথাও না যেতে পারেন তাও দেখা হচ্ছে।
কপাল বা ভাগ্য বলে একটি কথা আছে? অনেকে ধরে নিয়েছিল তারাই সরকার গঠন করবে। এমনকী জামাতও সেটাই বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু...
Read more












Discussion about this post