বিশ্ব রাজনীতিতে কেউ চিরকাল একাধিপত্য রাখতে পারে না। যেমন পারেনি ইংল্যান্ড, তেমন আমেরিকাও পারবে না। তাইতো বিশ্ব রাজনীতি নতুন নতুন রহস্য আর গোলক ধাঁধাঁয় ভরপুর। সেই রহস্যই বিশ্বকে নতুন নতুন ভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করে। এক সময় ঠান্ডা যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা রাশিয়াকে ভেঙেছিল, এখন রাশিয়ার কাছে সুযোগ এসেছে তার বদলা নেওয়ার। আর সেই যু্দ্ধে রাশিয়ার প্রধান সহযোগী চিন এবং ভারত।আসলে এতদিন কেউ ভাবেনি যে আমেরিকাকে ধাক্কা দেওয়া যায়। আমেরিকার দাদাগিরিকে এত নিঃশব্দে কঠোর ভাবে প্রতিহত করা যায়, যা করে দেখিয়ে দিয়েছে ভারত। এখন ভারতের কুটনীতির কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য আমেরিকা। আর রাশিয়ার খুশির কারণ হল বন্ধু ভারতের অবিচল অবস্থান। সম্প্রতি চিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি বিশ্লেষন করে দেখলে, বোঝা যাবে বিরাট পরিবর্তনের সামনে গোটা বিশ্ব। আর সেই পরিবর্তনের নায়ক হতে চলেছে তিন দেশ। রাশিয়া ভারত এবং চিন। আর এই পরিবর্তন কে দ্রুত করতে সাহায্য করছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আমেরিকার ডলারের দাদাগিরিতে তছনছ হয়েছে অনেক দেশ। যার প্রধান উদাহরণ হল ইরান। সেই ইরান পথ দেখিয়েছে ডলারকে বাইপাস করার নতুন পথ।
এখন ডলারকে সরিয়ে তার জায়গা নিতে তৈরী হচ্ছে ব্রিকস মুদ্রা। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কেকে চিনতে পারেননি ট্রাম্প। শুধু কম দামে তেল কিনতে পারাটাই দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি নয়। সম্পর্কের ভীত আরো অনেক গভীরে সেটাই বুঝতে পারেনি আমেরিাকার প্রেসিডেন্ট। এতদিন কেউ বিদেশে স্থায়ী ভাবে থাকতে চাইলে, প্রথমেই যে দেশটির নাম আসত সেটি হল আমেরিকা।কিন্তু এখন আমেরিকার সব কিছু এতটাই বদলে যাচ্ছে, আমেরিকার প্রভাবশালী ধনী ব্যক্তিরাই আমেরিকা ছেড়ে অন্য কোন দেশে চলে যাচ্ছে।এবং বহু আমেরিাকান দেশ ছাড়ার অপেক্ষায়। অর্থাৎ আমেরিকা নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, এখন আমেরিকানদের মধ্যেই নিজেদের নিয়ে সেই গর্ব আর স্বপ্ন নেই।যে কারণে অনেকেই মনে করছেন আমেরিকাই এখন ভাঙনের মুখে। এবং সেই ভাঙন কোথা থেকে শুরু হবে তাই নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। অনেকেই জানিয়েছেন ভবিষ্যতে কোথা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পতন শুরু হতে পারে। আন্তজার্তিক রাজনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাধ্যমে এই পতন হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।হয়তো আমেরিকাকে যুদ্ধের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয় কোন দেশের পক্ষ্যে।
তাই আমেরিকার পতন যুদ্ধের মধ্যে নয়। যু্ক্তরাষ্ট্র ভাঙতে পারে অর্থনৈতিক সঙ্কট অথবা বৈশ্যিক রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে। কিছুদিন আগেও মনে করা হত ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলি যদি আমেরিকার সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ট্রারিফের চাপ বুমেরাং হয়ে আমেরিকার দিকেই ফিরে যাচ্ছে। ফলে শুধু ইউরোপ নয় গোটা বিশ্ব থেকেই ট্রাম্পের এই পাগলামোকে বাইপাস করার চেষ্টা হচ্ছে। মানে আমেরিকাতে পণ্য না পাঠিয়ে অন্যান্য দেশগুলিকে তার পরিবর্ত হিসাবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। এবং ডলারকে বাদ দিয়ে নিজ নিজ দেশের মুদ্রায় আমদানি এবং রপ্তানি শুরু করা হচ্ছে। ফলে আমেরিকার অর্থনীতির উপর এক ভয়ঙ্কর চাপ আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার যে পেট্রোডলারের চুক্তি ছিল, মানে পেট্রোল কিনলেই তা কেবল মাত্র ডলারের মাধ্যমেই মূল্য দিতে হত, সেই চুক্তিও ২০২৪ সালে শেষ হয়ে গেছে। ফলে ডলারের শক্তি দিন দিন কমছে। আর যে কারণে আমেরিকার ব্যবসায়ীরা আমেরিকা ছেড়ে, সুইজারল্যান্ড বা ইউরোপের অন্য কোন দেশগুলিকে পাকাপাকি ভাবে বসবাসের জন্য তাদের গন্তব্যস্থল হিসাবে বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের ট্যারিফ ছাড়াও অভিবাসন নীতির ভূল প্রয়োগের কারণেও আমেরিকান বিত্তশালীরা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে এমন কিছু দেশের সঙ্গে আমেরিকার শত্রুতা আছে বা আমেরিকা এমন কিছু দেশের পালাবদলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে যে তারা যে কোন সময় আমেরিকার উপর ভয়ঙ্কর হামলা চালাতে পারে। তখন আমেরিকার জনমানসে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটির বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়, এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। ফলে এই কারণটিও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অনেকেই মনে করছেন যু্ক্তরাষ্ট্রের পতন যদি হয়, তা হবে অনেক গুলি ছোট ঘটনার ফলাফল। অর্থাৎ এই সব ঘটনাগুলি একসঙ্গে ঘটলে বিশ্ব শক্তির জায়গাটি নড়বড়ে হতে বাধ্য।












Discussion about this post