মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে অরাজকতা এবং বিশৃঙ্খলা থামার কোনও লক্ষণ নেই। আর প্রতিটি ক্ষোত্রেই কোনও না কোনও ভাবে শিক্ষার্থীদের যোগ রয়েছে। শনিবার রাত থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে যেমন শিক্ষার্থীরাও আহত হয়েছে, তেমনই আহত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য-সহ আরও কয়েকজন অধ্যাপক। এই সংঘাতের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশেপাশের এলাকায় রবিবার দুপুর ৩টে থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালেও একদল শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে অবস্থান করতে শুরু করেন। এমনকি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সকল সদস্যকে পদত্যাগ করার দাবি জানানো হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র বিক্ষোভ চলছে বিগত কয়েকদিন ধরে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রদের পিছনে কাদের হাত রয়েছে, সকলেই কি সাধারণ শিক্ষার্থী?
জানা যাচ্ছে, রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা এলাকার গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষে শিক্ষার্থী এবং গ্রামবাসী মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই সংঘর্ষ চলাকালীন উত্তেজিত একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরে রাখা নিরাপত্তারক্ষীদের অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চবির বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে জব্দ করা দেশীয় অস্ত্র নিরাপত্তা দফতরে সংরক্ষণ করা ছিল। সংঘর্ষের সময় সেখান থেকেই অস্ত্রগুলি লুট হয়। তাঁরা আরও জানিয়েছে, প্রায় ১৩০টি ধারালো রামদা ওই অস্ত্রাগার থেকে লুট হয়েছে।এখানেই শেষ নয়, স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, শিক্ষার্থীরা এলাকার বহু বাড়িঘর এবং দোকানপাট ভাঙচুর করে লুটপাট চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এই সংগঠন কাদের? জানা যাচ্ছে, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং নারী অঙ্গনের নেতা-কর্মীরাই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি-সহ প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, বিগত এক বছরে যে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পিছনে কোনও না কোনও অজ্ঞাতকুলশীল, ভুঁইফোঁড় সংগঠন রয়েছে। যা মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা জাতীয় নাগরিক পার্টির মদতেই সৃষ্টি হয়। আবার কোনও ক্ষেত্রে জামাত বা বিনএনপির পরোক্ষ্য মদত থাকে এই ছাত্র আন্দোলনের পিছনে। মূলত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলা বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে এনসিপি, জামাত। আর বিতর্ক হলেই সব দোষ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। যেমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানেও ছাত্রলীগ, যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির দেগেছেন সহ-উপাচার্য। বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুব সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এত হাজার হাজার কর্মী এলেন কোথা থেকে? যদি সরকারপক্ষ এবং বিশ্বিবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি সত্যি হয়, তাহলে আগামীদিনে মুহাম্মদ ইউনূসের টিকে থাকা দায় হয়ে যাবে।












Discussion about this post