বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে চাপে রাখার প্রচেষ্টায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় সেনাবাহিনী পদোন্নতি বোর্ডের তরফে দেওয়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম সম্বলিত ফাইলগুলি দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ। যা নিয়ে নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল সেনাসদন ও যমুমার মধ্যে। প্রসঙ্গত, গত ২০ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী সেনা পদোন্নতি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইউনূস, জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার কথায়, সেনা পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশগুলি সাধারণত প্রধানমন্ত্রী অথবা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেতে “২৪ থেকে ৭২ ঘন্টা” সময় লাগার কথা। কিন্তু সুপারিশ অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পরবর্তীতে নতুন পদে নিযুক্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তাই জেনারেল ওয়াকারের ঘনিষ্ঠ বলে প্রধান উপদেষ্টার দফতর নজিরবিহীনভাবে তা আটকে রাখে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনও কারণ না দেখিয়েই ফাইলগুলি ছাড়পত্র না দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে রদবদল হয়। কিন্তু ভিতরের খবর, সেনাপ্রধান যে ৭২ জনের ফাইল পাঠিয়েছিলেন পদোন্নতির জন্য, তা পুরোপুরি মানা হয়নি। এই আবহেই সেনাপ্রধান সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, সংঘাতের মূল কারণ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি নিয়োগ করা নিয়ে। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ডিভিশনই ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার দায়িত্বে। মূলত সেনাপ্রধান-সহ প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে থাকে নবম পদাতিক বাহিনী। ফলে এই ডিভিশনে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের পছন্দের সেনাকর্তাকে বসাতে চাইছেন। অপরদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার চাইছিলেন তাঁর কাছের কাউকে বসাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউনূসের পছন্দেই শিলমোহর পড়েছে বলে জানা গেল। বদলির অংশ হিসেবে বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হককে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি থাকাকালীন মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে বঙ্গবন্ধুর ছবি, ম্যুরাল ও মুর্তি সরিয়ে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর আওতাধীন সেনানিবাসের কোথাও বঙ্গবন্ধুর চিহ্ন রাখা যাবে না। মনে করা হচ্ছে তাঁকে ঢাকায় নবম পদাতিক ডিভিশনে এনে জেনারেল ওয়াকারকে চাপে রাখলেন মুহাম্মদ ইউনূস। কারণ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত যতগুলি ক্যু বা সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে সবগুলোই এই নবম পদাতিক ডিভিশন থেকেই হয়েছে। ফলে এই ডিভিশনের জিওসি হিসেবে মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হকের মতো জামাতপন্থীকে নিয়ে এসে বাজিমাত করতে চাইছেন ইউনূসবাহিনী।
শেখ হাসিনার আমল থেকেই এই নবম পদাতিক বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল মঈন খান। যিনি জেনারেল ওয়াকারের যেমন অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলেন, তেমনই শেখ হাসিনারও আস্থাভাজন ছিলেন। জানা যাচ্ছে, আগস্টেই অবসরগ্রহন করতে চলা এই মেজর জেনারেলের চাকরিজীবন বা দায়িত্ব সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কিন্তু তা করা হয়নি। সংঘাতের সূত্রপাতও এখান থেকে। মেজর জেনারেল মঈন খানকে প্রবলভাবে নবম পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্বে রেখে দিতে চেয়েছিলেন সেনাপ্রধান, কারণ তিনি থাকা মানে সেনাবাহিনীতে যেমন ক্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকতো না, তেমনই সেনাপ্রধানের নিরাপত্তাও অটুট থাকতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করেন মুহাম্মদ ইউনূসই। তিনি এমন একজনকে ওই পদে মনোনয়ন দিলেন, যাকে নিয়ে প্রতি মুহূ্র্তে আশঙ্কায় ভুগতে হবে সেনাপ্র্ধানকে। যদিও গত ১ সেপ্টেম্বর সেনাপ্রধান যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। আসলে তিনি সেনাবাহিনীকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ৭২টি ফাইলের মধ্যে ৭০টি ফাইলে সাক্ষর করলেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু তিনি ভালোভাবেই জানেন, যে কোনও মুহূর্তে তাঁর ঘাড়ে কোপ পড়তে পারেন। আর এই কারণেই তাঁর তৎপরতা বেড়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post