বিগত এক বছর ধরে ভারতেই নির্বাসিত বাংলাদেশের বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে ভারত সরকার একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রাপ্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে দিল্লিতে ঠিক কোথায় তাঁকে রাখা হয়েছে, তা এখনও গোপন রেখেছে নয়া দিল্লি। বিশ্বের তাবড় গোয়েন্দা সংস্থাও জানতে পারেনি শেখ হাসিনার বর্তমান ঠিকানা। তবে এটা জানা গিয়েছে, হাসিনা যে বাংলোয় থাকেন, সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মচারি-সহ একটি সুসজ্জিত কার্যালয় করে দিয়েছে ভারত সরকার। সেখানে সুরক্ষিত টেলিফোন লাইনও রয়েছে। জানা যায়, সেখান থেকেই শেখ হাসিনা তাঁর যাবতীয় কর্মকাণ্ড, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারকাজ চালান। তবে দীর্ঘদিন তিনি ছেলে মেয়ে বা তাঁর দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারেননি। সেটা বিগত দুই-তিন মাসে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে করছেন। এবার জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিশেষ দায়িত্ব পেলেন, হাসিনাকন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা সিআরআই-এর কাজকর্ম শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এবার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলেন পুতুল। বাংলাদেশে রটনা, নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে হাসিনার কন্যা সিআরআই-এর যাবতীয় কাজ কর্ম পরিচালনা করছেন। প্রসঙ্গত, এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই কোনও একটি বাড়িতে থাকেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা, এমনটাই খবর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের খোঁজে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত সুধাসদনে অভিযান চালিয়েছিল বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। প্রথমদিকে কোনও ঠিকানায় সূচনা ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি দুদক। কিন্তু ৭ মাসের ব্যবধানে জানা যায় হাসিনা কন্যা পুতুলের এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাট, কর ফাঁকি-সহ বিস্তর দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। জানানো হয়, প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় নামে সূচনা ফাউন্ডেশন খুলে শেখ হাসিনা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর প্রমাণও পেয়েছে দুদক। একই সঙ্গে ৯৩০ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের খোঁজ পায় তাঁরা। এই অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। প্রসহ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করার চার মাস পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁকে ছুটিতে পাঠায়। সাধারণত কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তকে লম্বা ছুটিতে যেতে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সরকারের অনুরোধে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দীর্ঘকালীন ছুটিতে পাঠায় হু। আওয়ামী লীগের কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, এটা একদিকে যেমন তাঁর বিপদ বাড়ালো, তেমনই আরেকটা সুযোগ করে দিল মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর জন্য। ওই সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় আইনগতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে এখন অফিশিয়ালি সিআরআই’র দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ কারণে শেখ হাসিনার নির্দেশে জয়কে সরিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সিআরআই’র নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির বিরুদ্ধে একের পর এক সাইবার আক্রমণের পেছনে কাজ করছে আওয়ামী লীগের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের হাত রয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ক্লিপ, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে সিআরআই এক ধরনের সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাঁদের আরও দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এক প্রকার প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসাবে কাজ করছে সিআরআই, যা এখন পরিচালিত হচ্ছে ভারত থেকে। আর হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল গোটা পরিকল্পনা ও রূপায়নের দায়িত্বে আছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্ট উল্লেথ করে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, আওয়ামী লীগ নেত্রী গত বছরের জুলাই বিপ্লবের মতোই এ বছর আরেকটি গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে মরিয়া বাংলাদেশে। সে জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা অশান্ত করতে চাইছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কন্যাকেই সেই দায়িত্ব সঁপেছেন তিনি। তবে দেখার এই অভিযোগ কতটা সত্যি সেটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আর ভারত সরকারও এই অভিযোগের কোনও জবাব দেয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post