আজকের এই বাংলাদেশের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের মিল পাওয়া যাচ্ছে কি। দেশের মানুষই যখন দেশের ভালো মন্দ নিয়ে কিছু বললে ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে যান। সাংবাদিককে বিনা কারণে গ্রেফতার করাই শুধু নয়। বিচারকের সামনে সাংবাদিককে মারধোর করা হয়। আইনজীবিরাই বিচারকের ভুমিকা নিয়ে আদালত থেকে বার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তখন তো প্রশ্ন জাগবেই এই নতুন স্বাধীনতা কেমন স্বাধীনতা। এখানে যারা জুলাই আন্দোলোন করেছেন তারা সব চোর ডাকাত, তার পরও জুলাই আন্দোলোনের জয়গান গাইতে হবে। যারা হাসিনার কাজকর্মের প্রতিবাদ করেছেন তাদের সাংবাদিকতার দায়িত্ব বোধ থেকে এবং তার জন্য জেলও খেটেছেন। এমনকি তাদের চাকরিটিও গেছে। সেই সাংবাদিকরাই আজ জুলাই আন্দোলোনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কোন আলোচনা করলে বা গোলাম আজমের ছেলেকে নিয়ে কোন কথা বলেলে শুধু হুমকিই নয়, সত্যি সত্যি তাদের ফাসিয়ে জেলে পাঠানো হয়, এবং পাকিস্তান বিরোধী কথা বলার জন্য উচিৎ শিক্ষাও দেওয়া হয়। তাহলে জুলাই আন্দোলোনটি আসলে কি দেশকে বিভক্ত করার আন্দোলোন ছিল। তাই কি কারাবন্দি সাংবাদিক মঞ্জুর আলমের জামিনের বিচার চলা কালিন আর এক সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে আইন কক্ষের এজলাসেই তাকে মার ধোর করা হয়। বিচারকের সামনে যদি এই ঘটনা ঘটে তবে কি এটি এখন বাংলাদেশের আদালত নাকি ইউনূস ল্যান্ডের আদালত। যেখানে বিচারকের থেকে মবকারীদের ক্ষমতা বেশী। বিচার যে কেমন হচ্ছে তার আর একটি উদাহরণ হল আবু সইদের হত্যা মামলা।যেখানে আবু সইদের বাবা বলছেন প্রথম সাক্ষী হিসেবে মকবুল হোসেন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় তিনি আবু সাঈদকে একবার দেখেছেন। তখন দেখতে পান, আবু সাঈদের মাথার পেছন থেকে রক্ত ঝরছে। বুকে গুলির চিহ্ন, সারা বুক দিয়ে রক্ত ঝরছে। যে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল যে মাথার পিছনে গুলির চিহ্ন ছিল, সেই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, জবানবন্দিতে আবু সাঈদের মাথার পেছনে গুলি লাগার কথা বলেননি তাঁর বাবা মকবুল হোসেন। আর তার পর থেকে আবু সাইদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে নি ঐ সংবাদ মাধ্যম। ফলে বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশে আইন এবং বিচারের হাল কি। এর পরও আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে যে বর্তমানে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম নাকি বিশ্বের সব থেকে বেশী স্বাধীনতা ভোগ করছে। তার কারণ হল এই ঘোষনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব তিনি বলেন গত নয় মাস ধরে অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করছে গণমাধ্যম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা চাকরি হারিয়েছেন, তা গণমাধ্যমের মালিক নিজেকে রক্ষায় ছাঁটাই করেছেন। তাঁদের চাকরিচ্যুত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করেনি। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া মঞ্জুর আলম বা পান্না সাহেবের জামিনের শুনানি ছিল। ঐ সাংবাদিক সত্যের উন্মোচন করতেন তাই তিনি সন্ত্রাসী। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কি এটা বুঝতে পারছেন সাংবাদিকরা কতটা ঝুকি নিয়ে দেশের ঠিক ভুল মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।এ কোন বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের জন্যই কি ৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ নাকি ২৪শের জুলাই আন্দোলোন, প্রশ্নটা আপনাদের কাছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post