তদারকির সরকার প্রধান ইউনূসকে দেখে এখন নিন্দুকেরা ফুট কাঠছেন। বলছেন, উনি এখন রবীন্দ্রনাথের বাল্মিকী প্রতিভার সেই গান ভাঁজছেন – ‘এ কী এ ঘোর বন এনু কোথায়, পথ যে জানি না, মোরে দেখায়ে দে না। কী করি এ আঁধার রাতে, কী হবে মোর হায়’।
সত্যিত এখন তিনি কপাল চাপড়াচ্ছেন। কত আশা নিয়ে সিংহাসন দখল করেছিলেন। সেই সিংহাসন ঘিরে কত স্বপ্ন দেখেছিলেন। তখন গান গাইতেন- এমন স্বপ্ন কখনো দেখিনি আমি, মাটিতে যে আজ স্বর্গ এসেছে নামি। আর এখন গাইছেন বাল্মীকি প্রতিভার গানটি – এ কী এ ঘোর বন, এনু কোথায়। এখন তাঁর অবস্থা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি। সিংহাসনের মায়া কেটে গিয়েছে। ক্ষমতার মোহ পদ্মার জলে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি চাইছেন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। ইউনূস তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে বাজিয়ে চলেছেন একটাই রেকর্ড – ফেব্রুয়ারিতে যেভাবেই হোক ভোট করিয়ে তিনি ব্যাটন অন্যের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত। তিনি আর এই বোঝা বইতে নারাজ। যারা আগে ইউনূসকে বলতেন, স্যর থাহে না। এখন আর তাদের উচ্চবাচ্য করতে দেখা যাচ্ছে না। হিরো থেকে জিরোতে নেমে এসেছেন। এখন উপায় একটাই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে একটা সেফ প্যাসেজ। লন্ডনের বিএনপির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তারা ক্ষমতায় এলে ইউনূস হবেন রাষ্ট্রপতি। সেই প্রস্তাব এখন তামাদি হয়ে গিয়েছে। বিএনপির অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠছে, তারা ক্ষমতা দখল করলে কেন ইউনূসকেই রাষ্ট্রপতি বসাবেন। বিএনপিতে ওনার থেকেও আরও অনেক যোগ্য লোক রয়েছে। তা ছাড়া ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে দল তো ডুববে, সঙ্গে দেশও। কারণ, দেশ শাসনের কোনও অভিজ্ঞতা ইউনূসের নেই। গত ১৩ মাসে বারে বারে প্রমাণিত হয়েছে।
এখন বিএনপি একটা নীল নকসা তৈরি করেছে। সেই নীল নকসা হল ভোট হবে। তবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে। বাকি থাকল জাতীয় পার্টি, জামাত এবং এনসিপি। জামাত আবার নির্বাচন ইস্যুতে গোঁ ধরে বসে আছে। তারা দুটি শর্ত দিয়েছে। একটি শর্ত হল জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপরে স্থান দিতে হবে এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে হতে হবে। জামাত এখন বুঝতে পেরেছে, তারা যদি নির্বাচনে না যায় বিএনপি কার সঙ্গে ভোটে লড়াই করবে। আওয়ামী লীগ তো ভোটে নেই। তাছাড়া তারা ভোটে অংশ না নিলে বিএনপি জাতীয় পার্টি এবং এনসিপির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করবে। আর সেটা হলে আমে –দুধে মিশে গিয়ে পড়ে থাকবে আঁঠি। জামাত এখন রেকর্ড উলটে ফেলেছে। তারা বলছে, জনগণ না চাইলে তারা পিআর পদ্ধতিতে ভোটে লড়বে না। এখন জামাত ভোটে লড়তে রাজি হয়েছে।
অপর দিকে এনসিপি বাড়াবাড়ির শেষ পর্যায়ে গিয়েছে। আগে এই দলের নেতা-কর্মীদের বিড়ি খাওয়ার পয়সা জুটত না। এখন তাদের কেউ থাকেন দুবাই। কেউ এবার বিট কয়েনের ব্যবসা করেন। তারা আচমকাই বলতে শুরু করে আওয়ামীকে যেভাবে ভ্যানিস করেছে, বিএনপিকেও তারা একই কায়দায় ভ্যানিস করে দেবে। এনসিপি এখন বুঝতে পেরেছে, ইউনূস এবং সেনাবাহিনী সেভাবে আলোড়ন তুলতে পারেনি। তারা এখন বিএনপির নেতৃত্বের কাছে আসন ভিক্ষা চাইছে। যে কটা আসন দেবে, সেই সেই আসনে তারা প্রার্থী দেবে। যা পায়, সেটাই লাভ। অথচ মাস খানেক আগেও দলের নেতাদের গলার আওয়াজে মেঘের গর্জন শোনা যেত। ক্যান্টনমেন্ট গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি শোনা গিয়েছিল দলের নেতাদের গলায়। এমনকী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে দেবে না বলেও শাঁসানি দিয়েছিল। জোঁকের মুখে লবন পড়লে যা হয় এখন এনসিপির সেটা হয়েছে। কেউ কেউ বলছে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভোট হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post