কথায় আছে, নিজের ইচ্ছায় বাঘের পিঠে ওঠা গেলেও নামতে হয় বাঘের ইচ্ছায়। ইউনুসের এখন সেটাই হয়েছে। নিজের ইচ্ছায় বাঘের পিঠে উঠেছিলেন। এখন আর স্বেচ্ছায় নামতে পারছেন না। নির্বাচন হলে ভালো হবে সেটা অনুমান করে ভোটের ঢাক বাজিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, ভোট করিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে কেটে পড়া। এখন দেখেছেন নির্বাচনের ঢাক বাজিয়ে খুব ভুল করেছেন। নির্বাচন করলেও বিপদ, না করলেও বিপদ। ইউনূস এখন ‘অভিমন্যুর চক্রব্যূহে’। বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। বিপদ এতটাই যে নিজের সরকারিভবনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যমুনা থেকে এক চুলও নড়ছেন না। সূত্র বলছে, ইউনূস এখন জীবন শঙ্কায় ভুগছেন। তাই, অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য ভারতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান চিন থেকে ফেরার পর এক অদ্ভূত কাণ্ড ঘটান। তিনি রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াকারের সঙ্গে বেশ ঝাঁঝালো কথাবার্তা হয়েছে। সেনাপ্রধান যখন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, সেই সময় ইউনূস তখন জেনারেল কামরুল হাসানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিতে হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে আশানরূপ কোনও ভরসা পাননি। এর পর তিনি এনসিপি, জামাত এবং বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করেন। মনে বড় আশা নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন। উলটে তাঁকে দুশ্চিন্তার মহাসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। ইউনূস এখন ষুক্তরাষ্ট্র ও চিনের দাবার ঘুটিতে পরিণতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, ক্ষমতা দখল করে তিনি (ইউনূস) সে দেশের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ করবেন। সেটা না করায় ইউনূস এখন শুকনো কিসমিসে পরিণত হয়েছে। মূলত হোয়াইট হাউজের চাপেই তিনি নির্বাচন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বাস দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
অন্যদিকে, ইউনূসের ওপর আর জনভিত্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর ওপর আর ভরসা করতে চাইছে না। আবার বিএনপিকে ক্ষমতা আনলে চিনা স্বার্থগুলি হুমকিতে পড়বে। তাই, তারা নিজেদের পুরনো মিত্র জামাতকে কাছে টেনে নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য নীল নকশা তৈরি করেছে। জামাতে পিআর পদ্ধতিতে গোঁ ধরে থাকার কায়দাও বাতলে দিয়েছে। আর অনির্বাচিত সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন এনসিপিও ক্ষমতায় থাকবে। চিন তাই, তাদের হাত করে ফেলেছে। চিন চাইছে না কোনওভাবেই ফেব্রুয়ারিতে ভোট হোক। আর যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। সম্ভব হলে তারও আগে করলে তাদের আপত্তি নেই। এই দুই শক্তির চাপে পড়ে জীবন শঙ্কায় ভুগছেন ইউনুস। নির্বাচন করলেও বিপদ, না করলেও বিপদ।
সূত্র বলছে, নূর ও সেনাপ্রধান ইস্যুতে এনসিপি, জামাত এবং বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পরে পরেও ইউনূস বুঝতে পারেন হাওয়া খুব খারাপ। পালিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। তাই, ভারতের দিকে চাতক পাখির মতো হা করে বসে আছেন। সূত্রের খবর, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণব বর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেফ এগজিট চেয়ে বসেন। তবে এটি সরকারি বিষয় হওয়ায় ভারতের হাইকমিশনার ইউনূসকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। গোবিন্দ মোহন জানান, মবের শিকার হওয়া নিরীহ ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত চিন্ময় প্রভুর বিষয়টি ভালোভাবে দেখভাল করতে হবে। তাহলেই সেফ এগজিটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post