হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে বোমা ফাটাল ভারতের পত্রিকা নর্থইস্ট নিউজ ইন্ডিয়া। তারা গত ৩০ অগাস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের তিন মন্ত্রীকে বলির পাঁঠা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। এই তিন মন্ত্রী হলেন, হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ এবং শিল্প সংক্রান্ত পরামর্শদাতা সালমান এফ রহমান, তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী মহম্মদ আরাফত। হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করতে এই তিনজনকে দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তাদের পাখি পড়ার মতো পই পই করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল, হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য কী। তাদেরকে এমনভাবে পরিচালনা করেছিল, যাতে তাদের কাজকর্ম আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যায়। ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্টের আগে থেকেই এই তিনজনের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রেখে গিয়েছিল হোয়াইট হাউজ। ব্যাপারটা প্রকাশ্যে আসে অন্য একটি রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে।
জুলাই-অগাস্টে বাংলাদেশ সাক্ষী ছিল ছাত্র আন্দোলনের। সেই আন্দোলন ঠেকাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয় হাসিনা সরকার। কেন ব্যর্থতা, সেটা খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এই তিনে বিশ্বাসঘাতকতা। রহমান এবং হককে পুলিশ ঢাকার সদরঘাট থেকে ১৩ অগাস্ট রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে। তৃতীয় বেইমান আরাফতের ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। (এই খবর লেখা পর্যন্ত)। তদারকি সরকারের কর্তা, বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান, আরাফত বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রহমান, আরাফত এবং হক সরকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। হাসিনা সরকারের প্রাক্তন এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকায় এই তিনজনের সঙ্গে সে দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তার বৈঠক হয়েছে। ওই প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, সরকারে থাকাকালীন হাসিনার সঙ্গে কোনও বিষয়ে দেখা করতে চাইলে, তাঁকে বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যকে দেখা করতে দেওয়া হত না। পূর্বতন সরকারের আরও এক মন্ত্রীও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ২০২৩ থেকে ওই তিনজন মার্কিন বিদেশ দফতরের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ২৩-য়ের আগে যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না, একথা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার মতে, হাসিনা ২০১৮-য়ে ক্ষমতায় ফেরা পর থেকে আমেরিকা চেষ্টা চালাচ্ছিল, কীভাবে গদি থেকে মুজিব কন্যাকে টেনে নামানো যায়। ওই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা মহল থেকেই নানা প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, নির্বাচন হয়েছে পক্ষপাতমূলক। কারও কারও মতে, আমেরিকা ২০২৩-য়ের এপ্রিল –মে থেকে স্বচ্ছ-অবাধ-নিরপেক্ষ ভোটের দাবিতে সোচ্চার হয়। ঢাকা এসে সেই রেকর্ড বাজিয়ে যান তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রূদত পিটার হাস, দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন সহকারী বিদেশ সচিব ডোনাল্ড লু।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, পিটার হাসকে একাধিকবার বলতে শোনা যায় স্বচ্ছ এবং অবাধ নির্বাচন। বলতে শোনা যায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা। আসলে সেটা ছিল বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অঙ্গ। ২০২৩-য়ে হাসিনা আমেরিকা সফরে যান। সেখানে তিনি বুঝতে পারে, হোয়াইট হাউজ ঘুটি সাজিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতা থেকে তাঁকে নামিয়ে ছাড়বে। সেটা যে অলীক কল্পনা ছিল না, এখন সেটা সকলেই বুঝতে পারছেন। যেটা জানা ছিল না, এই পালাবদলের নেপথ্য নায়ক কে। নায়ক যে আমেরিকা, সেটা এবার ফাঁস করল ভারতের দৈনিক নর্থ ইস্ট নিউজ ইন্ডিয়া।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post