বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সেনাবাহিনী বিরোধী একটা ঐক্য দেখা যাচ্ছে। আকারে-ইঙ্গিতে এবং প্রকাশ্যে ক্যান্টনমেন্টের সমালোচনা করা এবং সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ করে নানা কটুকাটব্য করা এখন স্টাইলে পরিণত হয়েছে। বাহিনী নিয়ে বাংলাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বাহিনী কেন দরকার?
বাহিনী অতীতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে খুন করেছে। বাহিনী তিনতিনটি সামরিক শাসন কায়েম করেছে। প্রথম জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন, এরশাদের আমলে দ্বিতীয় সামরিক শাসন, মৈনুদ্দিন ফকরুদ্দিনের সময় তৃতীয় সামরিক শাসন। বর্তমানে বলা হচ্ছে, পর্দার আড়ালে থেকে তারা দেশ চালাচ্ছে। হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে সেনাবাহিনী। বলা হচ্ছে হাসিনার আমলে যেটা হয়েছে, সেটা আসলে সেনা অভ্যুত্থান। বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনী যদি ক্যান্টনমেন্টে থাকত, তাহলে হাসিনা যেভাবে পুলিশকে সাজিয়েছিলেন, যেভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগকে সাজিয়েছিলেন, সে ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে চলত একটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। সেনাবাহিনী যদিও হাসিনাকে সহযোগিতা করতেন, তাহলে ভিন্ন ইতিহাস হত। আগামীদিনে যে দল ক্ষমতায় আসবেন, তাদের কাছে সেনাবাহিনী হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশের ছোট বড় রাজনৈতিক দল বুঝে গিয়েছে, বাহিনীকে যেভাবেই তুষ্ট রাখা হোক না কেন, তারা যে কোনও সময় পাল্টি খেতে পারে। এই ব্যাপারে বাহিনী বেশ সিদ্ধহস্ত। অতীতের ট্র্যাক রেকর্ড সে কথাই বলছে।
জিয়াউর রহমানের কথাই ধরা যাক। বাহিনীর জন্য যা যা করা সম্ভব ছিল, সেটাই উনি করে দিয়েছিলেন। সেনার জন্য একের পর এক ক্যান্টনমেন্ট তৈরি করে দেন। তাদের বেতন বাড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে বাড়িয়েছেন ভাতা। এছাড়াও বাহিনীকে দিয়েছেন নানা ধরনের সুযোগ সুবিধে। অথচ এই জিয়াউর রহমানকে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়েছে। এরশাদের কথাই বা বাদ দেওয়া যাবে কী ভাবে। অথচ এই সেনা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
সেনার ভূমিকায় বিএনপি রীতিমতো অখুশি। জিয়াউর রহমানের ঘটনায় দলকে বেশ আঘাত করেছে। আঘাত পেয়েছে সাত্তারের ঘটনায়, আর ১/১১-য়ের ঘটনায়। আর চতুর্থবার যখন সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানে বাড়ি ভেঙে চুড়ে তছনছ করে দেয়। আর এই নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অসন্তোষ রয়েছে দেশবাসীর একাংশের মধ্যে। আর এখন জেনারেল ওয়াকারকে দিনরাত গাল পাড়ছে আওয়ামী লীগ। যদি আওয়ামী লীগ আগামীদিনে ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা এই বাহিনী রাখবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকে প্রশ্ন উঠছে। যদিও নির্বাচন কমিশন যে সব নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে ভোটে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বাহিনীকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
ইউনূসও সেনাবাহিনীকে পছন্দ করছেন না। বাহিনীকে না পসন্দ রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপপুর। কারণ, তিনি রাষ্ট্রপতি হলেও আসলে আওয়ামী লীগের সদস্য। তাই, বাহিনীকে পছন্দ না করার একাধিক কারণ রয়েছে। এবার এনসিপির কথা ধরা যাক। দলটা আসলে বাহিনীর সাজানো গোছানো একটা বাগান।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাহিনীর সাহায্য নিয়ে যারা বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা একসময় বাহিনীর তৈরি করে দেওয়া সেফ প্যাসেজ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে সকলেই কিন্তু বাহিনীর ওপর তিতিবিরক্ত। এমনকী, বাহিনীর সাহায্যে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, এখন তারাই কিন্তু সেনাবাহিনী গাল পাড়ছে। সবাই এখন যদি বাহিনীর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠে নামে, তাহলে বাহিনীর অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এমন ঘটনার সাক্ষী। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বাংলাদেশও কি এমন ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে।












Discussion about this post